২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৭ এপ্রিলের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে একাধিক নির্বাচনী ও প্রশাসনিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী বাজেয়াপ্ত হয়েছে বলে নির্বাচন কমিশন (West Bengal) সূত্রের খবর, এই সময়কালে রাজ্যজুড়ে চালানো নজরদারি ও তল্লাশি অভিযানে মোট ২১ কোটি টাকা নগদ উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি মদ, মাদকদ্রব্য, দামি উপহার সামগ্রী এবং অন্যান্য অবৈধ বা সন্দেহজনক সামগ্রী মিলিয়ে বাজেয়াপ্ত জিনিসের মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪২৭ কোটি টাকা।
নির্বাচন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও প্রভাবমুক্ত রাখতে বিভিন্ন সংস্থা পুলিশ, আয়কর দফতর, আবগারি বিভাগ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী যৌথভাবে এই অভিযান চালায়। বিশেষ নজরদারির আওতায় ছিল বিভিন্ন জেলা, সীমান্ত এলাকা, শহরাঞ্চল এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন রুট। নির্বাচনের আগে ও চলাকালীন সময়ে যাতে কোনো ধরনের কালো টাকা, অবৈধ মদ বা প্রভাব বিস্তারকারী সামগ্রী ভোট প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে না পারে, সেই লক্ষ্যেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র নগদ অর্থই নয়, বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যও উদ্ধার করা হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে গাঁজা, নিষিদ্ধ নেশাজাতীয় ওষুধ এবং অন্যান্য মাদক সামগ্রী আটক করা হয়েছে। এছাড়াও অবৈধ মদ তৈরির হদিস মিলেছে একাধিক স্থানে, যেগুলিকে পরে সিল করে দেওয়া হয়েছে। এই সমস্ত সামগ্রীর বাজারমূল্যও উল্লেখযোগ্য, যা পুরো বাজেয়াপ্ত তালিকায় বড় অংশ যোগ করেছে। তদন্তকারীদের মতে, নির্বাচনের আগে এই ধরনের নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী বিভিন্নভাবে ভোট প্রভাবিত করতে ব্যবহৃত হতে পারে। তাই প্রতিটি জেলায় স্থাপিত ফ্লাইং স্কোয়াড ও স্ট্যাটিক সার্ভিল্যান্স টিম নিয়মিত নজরদারি চালাচ্ছে। সন্দেহজনক গাড়ি, হোটেল, গুদাম এবং ব্যক্তিগত বাসভবনেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
এই বিপুল পরিমাণ বাজেয়াপ্তি রাজ্যের রাজনৈতিক মহলেও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিরোধী দলগুলির একাংশ দাবি করেছে, এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে নির্বাচনের আগে কতটা অর্থ ও প্রভাব ব্যবহার করা হচ্ছে। তাদের মতে, ভোট প্রক্রিয়াকে প্রভাবমুক্ত রাখতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। অন্যদিকে শাসকদলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে এবং আইন অনুযায়ী যেখানেই অনিয়ম ধরা পড়ছে, সেখানেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।




















