হলদিয়ার পোস্টাল ব্যালটে হস্তক্ষেপ পুলিশ কর্মী মোজারুলের! অভিযোগ বিজেপির

হলদিয়া: পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে আবারও সামনে এল গুরুতর নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ। (Postal Ballot)এবার অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে এক পুলিশকর্মীর নাম, যা নিয়ে নতুন…

postal-ballot-interference-west-bengal-police-haldia-controversy

হলদিয়া: পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে আবারও সামনে এল গুরুতর নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ। (Postal Ballot)এবার অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে এক পুলিশকর্মীর নাম, যা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে। বিষয়টি ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের নজরে আনার দাবি তুলেছে বিজেপি নেতৃত্ব।

বিজেপি অভিযোগ করেছে কলকাতা পুলিশের এক কর্মী, যার নাম মোজারুল বলে জানা গেছে এবং যার বাড়ি নন্দীগ্রাম এলাকায়, তিনি বেআইনিভাবে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত কাজকর্মে জড়িয়ে পড়েছেন। শুধু তাই নয়, অভিযোগ রয়েছে যে তিনি অন্যান্য পুলিশ কর্মীদের হলদিয়া মহকুমা শাসকের (SDO) অফিসে ডেকে পাঠাচ্ছেন ভোট দেওয়ার জন্য।

   

সূত্রের দাবি, সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মীদের তিনি নির্দেশ দিচ্ছেন যেন তাঁরা নিজেদের ডিপার্টমেন্টাল আই-কার্ড এবং ভোটার আইডি সঙ্গে নিয়ে উপস্থিত হন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বাভাবিকভাবেই উঠছে একাধিক প্রশ্ন। একজন কর্মরত পুলিশকর্মী কীভাবে ভোটার তালিকা পরিচালনা বা অন্য পুলিশ সদস্যদের ভোটদানের প্রক্রিয়ায় “সমন্বয়কারী” হিসেবে কাজ করতে পারেন, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে বিতর্ক।

আরও দেখুনঃ পশ্চিমবঙ্গে একসঙ্গে ২১ কোটি টাকা উদ্ধার, তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের কার্যকলাপ সরাসরি নির্বাচন বিধির পরিপন্থী। বিশেষ করে ইউনিফর্মধারী বাহিনীর সদস্যদের জন্য নির্ধারিত পোস্টাল ব্যালট প্রক্রিয়া অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গোপনীয়। সেখানে কোনও মধ্যস্থতাকারী বা অননুমোদিত ব্যক্তির হস্তক্ষেপ পুরো প্রক্রিয়াকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে দিতে পারে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এই কার্যকলাপের মাধ্যমে পোস্টাল ব্যালট প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে। যা শুধুমাত্র নির্বাচনী বিধিভঙ্গ নয়, বরং গণতান্ত্রিক কাঠামোর উপরও সরাসরি আঘাত বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, পুলিশ বা অন্যান্য ইউনিফর্মধারী কর্মীদের ভোটদানের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এছাড়াও, একজন কলকাতা পুলিশের কর্মী হয়ে হলদিয়ার মতো ভিন্ন প্রশাসনিক এলাকায় এই ধরনের কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। এটি কি আদৌ তাঁর এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও প্রভাব কাজ করছে তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।

এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন এবং সিইও র কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপের আবেদন জানানো হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, অবিলম্বে এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করে দেখা হোক, মোজারুল কার নির্দেশে এই কাজ করছেন এবং তাঁর পিছনে কোনও রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রভাব রয়েছে কিনা।

একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে, যাতে পোস্টাল ব্যালট প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণভাবে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ রাখা হয় এবং কোনওভাবেই সেখানে “মধ্যস্থতাকারী” বা পক্ষপাতদুষ্ট ব্যক্তির প্রবেশ না ঘটে। কারণ, এই ধরনের ঘটনা যদি সত্যি প্রমাণিত হয়, তাহলে তা গোটা নির্বাচনী ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও সরকারি ভাবে নিশ্চিত হয়নি, তবুও বিষয়টি ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই এ ধরনের অভিযোগ সামনে আসছে, যা প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।