মঞ্জু বসুর অপমানে ক্ষোভের চোরাস্রোত নোয়াপাড়ায়!

কলকাতা: মঞ্চে দলনেত্রীকে প্রণাম করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু প্রবীণ বিধায়ককে (Manju Basu) দেখেই চটে লাল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। দূর থেকেই সরে যেতে বলেন।  প্রণামে অবাধ্য বিধায়ককে শেষমেশ সরিয়ে ...

By Sandipa Sil

Published:

Follow Us
manju-basu-controversy-noapara-tmc-reaction-mamata-banerjee-stage-incident

কলকাতা: মঞ্চে দলনেত্রীকে প্রণাম করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু প্রবীণ বিধায়ককে (Manju Basu) দেখেই চটে লাল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। দূর থেকেই সরে যেতে বলেন।  প্রণামে অবাধ্য বিধায়ককে শেষমেশ সরিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষী। কয়েকদিন ধরে সোশাল মিডিয়ায় এই ছবি ভাইরাল। দুর্দিনের সৈনিকের অপমানে ক্ষোভের চোরাস্রোত বইছে নোয়াপাড়ায়। তৃণমূলের কর্মীদের বড় অংশ ক্ষুব্ধ।

২০০১ সালে প্রথমবার নোয়াপাড়ার বিধায়ক হন মঞ্জু বসু। তার আগের বছরে গুলি করে খুন করা হয় তাঁর স্বামী বিকাশ বসুকে। সেই বিকাশ বসুর আবেগ নিয়েই নোয়াপাড়ায় রাজনীতি করে তৃণমূল। সেই বিকাশ বসুর স্ত্রীর অপমানে তৃণমূলের অন্দরে ক্ষোভের চোরাস্রোত বইছে। তবে দলীয় শৃঙ্খলার কথা ভেবে অনেকেই প্রকাশ্যে কিছু বলছেন না। অন্যদিকে এই ঘটনা নিয়ে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছে বিরোধী শিবির। বাম-কংগ্রেস থেকে বিজেপি, সবাই একই সুরে তৃণমূলকে বিঁধছে।

   

২০০০ সালের এপ্রিলের সকালে ইছাপুর স্টোর বাজারে খুন করা হয় বিকাশ বসুকে। সেই ঘটনায় তৎকালীন তৃণমূল নেতা অর্জুন সিংয়ের নাম জড়ায়। তবে রহস্যের কিনারা হয়নি। চব্বিশের ভোটের আগে এই সেই ফাইল খোলার আশ্বাস দেন পার্থ ভৌমিক। তিনি সাংসদ হয়েছেন বটে, কিন্তু প্রতিশ্রুতি রক্ষার কাজ এগিয়েছে বলে নিশ্চিত করে কিছু জানা যায়নি। এরই মাঝে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধরনা মঞ্চে অপমানিত মঞ্জু বসু। এ নিয়ে নোয়াপাড়ার বিধায়ক বলেছেন, ‘‘দলনেত্রীকে প্রণাম করতে গিয়েছিলাম। এটাই সৌজন্য। তারপর যা ঘটেছে সবাই দেখেছেন। মানুষ তার বিচার করবেন।’’

সিকি শতাব্দী ধরে নোয়াপাড়ার রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে মঞ্জু বসু। এর মাঝে তিন বার বিধায়ক হয়েছেন। মাঝে দু’বার তাঁকে হারতে হয়েছে।২০০৬ সালে সিপিএমের কাছে। আর ২০১৬ সালে কংগ্রেসের কাছে। কংগ্রেসের কাছে হারের পর তাঁর সঙ্গে দূরত্ব বাড়ায় দল। ২০১৮ সালে নোয়াপাড়ার উপনির্বাচনে তাঁকে প্রার্থী করেনি তৃণমূল। তৃণমূলের টিকিটে জেতা সুনীল সিং পরে বিজেপিতে যোগ দেন। তখন আবার মঞ্জু বসুর কথা মনে পরে তৃণমূল নেতৃত্বের। একুশের ভোটে ফের নোয়াপাড়া থেকে বিধায়ক হন মঞ্জু বসু। সব ঠিকই চলছিল, তাল কাটল ধর্মতলার ধরনা মঞ্চে। মঞ্জু বসু বলেছেন, ‘‘আমি শহিদ বিকাশ বসুর স্ত্রী। শিক্ষকতা করেছি। আমার নামের সঙ্গে এক টাকার দুর্নীতির অভিযোগ কেউ পাবে না। বাকিটা নোয়াপাড়ার মানুষ বুঝবেন।’’

দুর্নীতিতে নেই। তবে জনসংযোগেও তৃণমূল বিধায়ক অনেক পিছিয়ে বলে দাবি করেন তৃণমূলের বড় অংশ। তাঁদের অনেকেই এবার প্রার্থী বদলের পক্ষে সওয়াল করেছিলেন। নতুন মুখ আনার জোরাল দাবিও উঠেছিল। এক ছাত্রনেতার পক্ষে গোপনে কাজও শুরু করে টিএমসিপি। শেষমেশ প্রার্থী হিসেবে মঞ্জু বসুর নামই ফের শোনা যাচ্ছিল। এরই মাঝে ধরনা মঞ্চের নাটক সবকিছুই যেন ওলোটপালট করে দিল। কেউ কেউ বলছেন, ধর্মতলার ঘটনা মঞ্জু বসুর জন্য শাপে বর হল। এবার সম্মানের খাতিরে তাঁকে টিকিট দিতেই হবে।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Sandipa Sil

আইনের ছাত্রী। শিক্ষানবীশ আইনজীবী। সাংবাদিকের সঙ্গে সংসারের সূত্রে সংবাদে আগ্রহ। কলকাতা24x7-এর মাধ্যমে পথ চলার শুরু।

Follow on Google