কলকাতা: মমতার ধরনা মঞ্চে অপমানিত হয়েছেন প্রবীণ বিধায়ক মঞ্জু বসু (Manju Basu)। নোয়াপাড়ার তৃণমূল বিধায়কের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যবহারে শুরু বিতর্ক। এর মধ্যেই অনেকের স্মৃতিতে ফিরছে বছর আটেক আগের একটি ঘটনা। বিজেপির প্রার্থী তালিকায় উজ্জ্বল ছিল এই মঞ্জু বসুর নাম।
সময়টা ছিল ২০১৮ সালের জানুয়ারি। কয়েক মাস আগে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন মুকুল রায়। সেই সময় নোয়াপাড়া উপনির্বাচনে গারুলিয়া পুরসভার চেয়ারম্যানকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। তৃণমূলের দুর্দিনের সৈনিক মঞ্জু বসু তখন দলের অন্দরেই যেন ব্রাত্য। সূত্রের খবর, তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন মুকুল রায়। যোগাযোগ করিয়ে দেন পশ্চিমবঙ্গে তৎকালীন বিজেপির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীর সঙ্গে। বিমানবন্দরে মঞ্জু বসুর সঙ্গে বিজয়বর্গীর বৈঠকের ছবিও সামনে এসেছিল।
২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী ছিলেন মঞ্জু বসু। তাঁকে হারিয়ে দেন কংগ্রেসের মধুসূদন ঘোষ। তখন থেকেই দলের অন্দরে ব্রাত্য হয়ে পড়েন মঞ্জু। ২০১৭ সালের অগাস্টে মধুসূদন ঘোষ মারা যান। ২০১৮ সালের শুরুতে নোয়াপাড়ায় উপনির্বাচন হয়। উপনির্বাচনে সুনীল সিংকে প্রার্থী করে তৃণমূল। সূত্রের খবর, তারপরেই মঞ্জু বসুর সঙ্গে যোগাযোগ করে বিজেপি। কয়েকদফার বৈঠকের পর প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা করে। এরপর ছিল বড় চমক। প্রার্থী ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সাংবাদিকদের ডেকে মঞ্জু বসু জানান যে তিনি বিজেপির হয়ে ভোটে লড়বেন না। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই ছিলাম, আছি।”
সূত্রের খবর, বিজেপির প্রার্থী হিসেবে মঞ্জুর নাম ঘোষণার পরই নড়েচড়ে বসে তৃণমূলের উত্তর ২৪ পরগনা জেলা নেতৃত্ব। তড়িঘড়ি ইছাপুর গোয়ালাপাড়ায় তাঁর বাড়িতে ছোটেন শীর্ষনেতারা। সেখানেই বৈঠকের পর বিজেপির প্রার্থী না হওয়ার কথা জানান বিকাশ বসুর স্ত্রী। সেই ঘটনায় মুখ পুড়েছিল বঙ্গ বিজেপির। সরকারিভাবে দলে যোগদান না করিয়ে প্রার্থী ঘোষণা করানোয় প্রশ্নের মুখে পড়েন মুকুল রায়।
অন্যদিকে, নোয়াপাড়ার সেই উপনির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী সুনীল সিংয়ের হয়ে প্রচারে দেখা যায়নি মঞ্জু বসুকে। তারপর দলীয় অনুষ্ঠানেও তাঁকে খুব একটা দেখা যেত না। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের পর বিজেপিতে নাম লেখান নোয়াপাড়ার তৎকালীন বিধায়ক সুনীল সিং। সেই সময় Kolkata24x7-কে মঞ্জু বসু বলেছিলেন, “আমার আর কিছুই বলার নেই। দিদি সব দেখছেন। তিনি যা ভালো বুঝবেন, করবেন।”
একুশের ভোটে সুনীল সিংকে নোয়াপাড়ায় প্রার্থী করে বিজেপি। আর মঞ্জুর উপরেই আস্থা রাখেন তৃণমূল সুপ্রিমো। ২০১৮ সালের ঘটনার জন্য প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশও করেন মমতা। তিনিই আবার এখন দুর্ব্যবহার করেছেন মঞ্জু বসুর সঙ্গে। এখনও নোয়াপাড়ার বিধায়কের যেন সেই এক রা, “আমার কিছুই বলার নেই। নোয়াপাড়াবাসী সব দেখছেন।”




















