হাওড়া: “বিজেপির পতন শুরু হয়ে গিয়েছে। লোকসভায় ওদের মুখে ঝামা ঘষে দেওয়া হয়েছে।” লোকসভায় কেন্দ্র সরকারের সংবিধান সংশোধনী বিল (আসন বৃদ্ধি সংক্রান্ত) আটকে যাওয়ার পর এভাবেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ধরা দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার পাঁচলার জনসভা থেকে মোদী সরকারকে নিশানা করে তিনি সাফ জানান, মহিলা সংরক্ষণের নামে আসলে ‘দেশ ভাগের’ নীল নকশা তৈরি করেছিল বিজেপি।
ডিলিমিটেশন ও বঙ্গভঙ্গের অভিযোগ
শুক্রবার সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না মেলায় মোদী সরকার বিলটি পাশ করাতে ব্যর্থ হয়েছে। সেই প্রসঙ্গ টেনে মমতা বলেন, “ওটা মহিলা বিলই ছিল না। ওটা ছিল ডিলিমিটেশন বিল। লোকসভার আসন ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ৮০০ করার পরিকল্পনা ছিল। উত্তর ভারতের আসন বাড়িয়ে দক্ষিণ ও পূর্ব ভারতের গুরুত্ব কমিয়ে দেশটাকে ভাগ করতে চেয়েছিল ওরা। এমনকি বঙ্গভঙ্গের চক্রান্তও ছিল এর মধ্যে।”
বিজেপির পতন শুরু mamata banerjee slams bjp
বর্তমানে কেন্দ্রে বিজেপি জোট সরকার বা ‘এনডিএ’ ক্ষমতায় থাকলেও মোদী ম্যাজিক যে ফিকে হচ্ছে, তা মনে করিয়ে দেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি বলেন, “বিজেপির এখন সিঙ্গল মেজরিটি নেই, অন্যের সাপোর্টে টিকে আছে। লোকসভায় গতকাল (শুক্রবার) আমরা ওদের পরাস্ত করেছি। এখন ওদের মুখগুলো চুনকালি মাখানো, চুপসে গিয়েছে।” মমতার হুঙ্কার, “সূর্যোদয় বিজেপি দিয়ে হলেও সূর্যাস্ত করবে তৃণমূলই। বাংলা থেকে বিজেপিকে তাড়ানোর যুদ্ধ আজ থেকেই শুরু হলো।”
নারীশক্তিতে তৃণমূলের নজির
বিজেপিকে খোঁচা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, তৃণমূলকে বিল এনে মহিলাদের অধিকার দিতে হয় না। তিনি পরিসংখ্যান দিয়ে বলেন, “পঞ্চায়েত ও পুরসভায় আমরা ইতিমধ্যেই ৫০ শতাংশ আসন মহিলাদের দিয়েছি। আমাদের লোকসভা সাংসদদের ৩৭ শতাংশ এবং রাজ্যসভায় ৪৬ শতাংশ মহিলা। বিজেপি শুধু প্রতিশ্রুতি দেয়, আমরা কাজ করে দেখাই।”
গণনা নিয়ে কর্মীদের সতর্কবার্তা
ভোট ও গণনার দিন বিজেপির ‘চাল’ সম্পর্কে কর্মীদের সতর্ক করেছেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, ‘স্লো ভোটিং’ এবং ‘স্লো কাউন্টিং’-এর মাধ্যমে কারচুপির চেষ্টা করতে পারে বিজেপি। তিনি বলেন, “গণনার শুরুতে রটিয়ে দেওয়া হতে পারে তৃণমূল হারছে। একদম ভয় পাবেন না। শেষ হাসি হাসবে জোড়াফুলই।”



















