লখনউ: উত্তর প্রদেশের লখনউয়ের (Lucknow) চারবাগ রেলওয়ে স্টেশনে বড় ধরনের জঙ্গি নাশকতার ষড়যন্ত্র ভেস্তে দিয়েছে উত্তরপ্রদেশ রাজ্য পুলিশের এটিএস। ঘটনায় চার সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তরা পাকিস্তান-ভিত্তিক হ্যান্ডলারের নির্দেশে সোশ্যাল মিডিয়া ও এনক্রিপ্টেড অ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ রেখে রেলওয়ে সিগন্যাল বক্স ও অন্যান্য রেল অবকাঠামোতে আগুন লাগানো বা বিস্ফোরক ব্যবহার করে ক্ষতি করার পরিকল্পনা করছিল। তাদের প্রথম টার্গেট ছিল লখনউয়ের চারবাগ স্টেশন এলাকা।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছে মীরঠের সাকিব উরফ ডেভিড (২৫), আরবাব (২০), গৌতমবুদ্ধ নগরের বিকাশ গহলাওয়াত উরফ রৌনক (২৭) এবং লোকেশ উরফ পাপলা পণ্ডিত উরফ বাবু (১৯)। এটিএসের দ্রুত অভিযানে ২ এপ্রিলের পরিকল্পিত ঘটনা ঘটার আগেই তাদের আটক করা হয়।
অভিযানে দাহ্য পদার্থ, একাধিক স্মার্টফোন এবং জঙ্গি নাশকতার সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে যে, অভিযুক্তরা দেশের বিভিন্ন শহরে রেল সিগন্যাল, ভিড়ের জায়গা ও গ্যাস সিলিন্ডারবোঝাই ট্রাকেও নাশকতা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল। পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের কাছ থেকে কিউআর কোডের মাধ্যমে অর্থ পাওয়ার তথ্যও মিলেছে।
উত্তরপ্রদেশ পুলিশের এডিজি (ল অ্যান্ড অর্ডার) অমিতাভ যশ জানিয়েছেন, এই মডিউলটি আইএসআই-সংশ্লিষ্ট বলে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গিয়েছে। অভিযুক্তরা লখনউ, আলিগড় ও গাজিয়াবাদসহ বিভিন্ন এলাকায় রেকি করেছিল এবং ভিডিও পাঠিয়ে হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল।
ঘটনার পর ভারতীয় রেলওয়ে সারা দেশের সব স্টেশনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
উত্তরপ্রদেশ এটিএস এখন অভিযুক্তদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ করে পুরো নেটওয়ার্ক উন্মোচনের চেষ্টা করছে। লখনউয়ের এটিএস থানায় ইউএপিএ ও ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এই ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে, কারণ সময়মতো পুলিশি তৎপরতায় একটি বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তদন্ত এখনও চলছে।




















