নয়াদিল্লি: দেশে গ্যাসের পরিস্থিতি আজ টালমাটাল। আজ রান্নার গ্যাস (LPG) নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ঠিকই কিন্তু সেই পরিস্থিতি অতটাও সংকটজনক নয় বলেই জানিয়েছে Ministry of Petroleum and Natural Gas। তাদের দাবি পরিস্থিতি কিছুটা চাপের হলেও দেশের কোথাও এখনও এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে ‘ড্রাই-আউট’ বা সম্পূর্ণভাবে গ্যাস শেষ হয়ে যাওয়ার খবর মেলেনি।
তথ্য অনুযায়ী দেশ জুড়ে প্রায় ২৫ হাজারেরও বেশি এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটর রয়েছে। সিলিন্ডার একেবারে ফুরিয়ে গিয়েছে এমন কোন তথ্য এখনও তাদের তরফ থেকে মেলেনি। তবে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের জেরে হরমুজ় সাময়িক বন্ধ থাকায় আমদানি ও পরিবহণ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়। সেই পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। বর্তমানে তা সমাধানের পথে।
এ প্রসঙ্গে পেট্রলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব (বিপণন ও তেল শোধনাগার) সুজাতা শর্মা বলেন,‘দেশে এখনও পর্যাপ্ত পরিমাণে অপরিশোধিত তেল মজুত আছে। সমস্ত তেল শোধনাগার সর্বোচ্চ ক্ষমতায় কাজ করছে। আমাদের পেট্রল পাম্পগুলি স্বাভাবিক ভাবে কাজ করছে। কোথাও কোনও শুষ্কতা অর্থাৎ ফুরিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।’
জানিয়ে রাখা ভাল সোমবারই হরমুজ় পেরিয়ে গুজরাটে এসে পৌঁছেছে প্রায় ৪৫ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি বোঝাই জাহাজ ‘শিবালিক’। অন্য LPG বোঝাই ভেসেল নন্দা দেবী আগামী ১৭ মার্চ মঙ্গলবার কান্ডলায় নোঙ্গর করবে। এতে দেশের গ্যাস সরবরাহ সঙ্কট কিছুটা হলেও মিটবে বলে দাবি একাধিক মহলের।
ভারতের LPG চাহিদার একটি বড় অংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এর উল্লেখযোগ্য অংশ আসে পশ্চিম এশিয়া থেকে এবং সেই জাহাজগুলি সাধারণত Strait of Hormuz দিয়ে ভারতীয় বন্দরে পৌঁছয়। ওই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথে উত্তেজনা বাড়ায় সরাসরি ব্যবস্থায় কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
তবে সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, মানুষের রান্নার গ্যাস সরবরাহকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। আতঙ্কিত হওয়ার মতো এখনও কিছু হয়নি। অনেকেই এই আতঙ্কে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি করে গ্যাস বুকিং করছেন। এর ফলে হঠাৎ করেই চাহিদা বেড়ে গিয়েছে এবং ডিস্ট্রিবিউশন ব্যবস্থার উপর চাপ পড়ছে। সরকার সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনীয় আতঙ্কে না ভুগে স্বাভাবিক নিয়মে সিলিন্ডার বুক করার পরামর্শ দিয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্র কতগুলি পদক্ষেপও নিয়েছে
দেশের ভেতরে এলপিজি উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিভিন্ন রাজ্যে অতিরিক্ত জ্বালানি মজুত রাখা হচ্ছে।
প্রয়োজনে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের বিষয়েও ভাবনা-চিন্তা করা হচ্ছে।
সরকারি সূত্রে খবর, রান্নার গ্যাসের পাশাপাশি পেট্রল ও ডিজ়েলের সরবরাহও বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। দেশের তেল শোধনাগারগুলি পূর্ণ ক্ষমতায় কাজ করছে এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে জ্বালানি মজুত আছে।
পেট্রলিয়াম মন্ত্রকের বক্তব্য, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি যদি আরও খারাপ হয় তা হলে ভবিষ্যতে সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব পড়তে পারে। সেই সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখেই কেন্দ্রীয় সরকার আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন সংস্থা ও রাজ্য সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করা হচ্ছে।




















