নয়াদিল্লি: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের আঁচ এসে পড়েছে ভারতের রান্নাঘরে৷ আর তার জেরেই এলপিজি গ্রাহকদের জন্য বড় পরিবর্তন এসেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে তেল কোম্পানিগুলো সিলিন্ডার সরবরাহের নিয়ম কড়া করেছে। এখন থেকে গ্রাহকরা ইচ্ছেমতো সিলিন্ডার বুক করতে পারবেন না, নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করতে হবে।
নতুন নিয়ম কী?
- ডাবল কানেকশন (দুটি সিলিন্ডার) গ্রাহকরা আগের সিলিন্ডার পাওয়ার ৩৫ দিন পর পরবর্তী রিফিল পাবেন।
- উজ্জ্বলা যোজনার সুবিধাভোগীরা আগের সিলিন্ডারের ৪৫ দিন পর রিফিল পাবেন।
এই নিয়ম চালু হয়েছে মজুতবাজি ও ভর্তুকির অপব্যবহার রোধ করতে। স্থানীয় গ্যাস এজেন্সিগুলো ইতিমধ্যে মৌখিক নির্দেশ পেয়েছে এবং শীঘ্রই এটি পুরোপুরি কার্যকর হবে।
এজেন্সিতে কী দেখা যাচ্ছে?
ভুইয়ান্ডিহের ওয়েসিস গ্যাস এজেন্সি: সিলিন্ডার আসা মাত্রই গ্রাহকদের ভিড় জমছে। অনেকে আগে থেকে বুক করে সময়মতো সিলিন্ডার পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করছেন।
ম্যাঙ্গোর কাঞ্চনদীপ গ্যাস এজেন্সি: বুকিংয়ের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। আগে প্রতিদিন প্রায় ২,০০০ বুকিং হতো, এখন তা নেমে এসেছে ৭০০-৮০০-এ।
এজেন্সি অপারেটররা বলছেন, “গ্রাহকরা নতুন নিয়ম সম্পর্কে সচেতন হলে বুকিং আরও স্থিতিশীল হবে। এটি শুধুমাত্র অপ্রয়োজনীয় মজুত রোধ করবে।”
গ্রাহকদের পরামর্শ
- প্রয়োজন অনুযায়ী আগে থেকে বুক করুন।
- শেষ মুহূর্তে অসুবিধা এড়াতে সময়মতো বুকিং করা জরুরি।
- উজ্জ্বলা গ্রাহকদের বিশেষভাবে ৪৫ দিনের নিয়ম মেনে চলতে হবে।
প্রশাসনের মতে, এই কড়া নিয়ম ভর্তুকির অপব্যবহার কমাবে এবং প্রকৃত প্রয়োজনীয় গ্রাহকদের সুবিধা নিশ্চিত করবে। তবে প্রথম কয়েকদিন গ্রাহকদের মধ্যে কিছুটা বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে।
বাংলার গৃহিণীদের জন্য কী অর্থ বহন করে?
কলকাতা, হাওড়া, দুর্গাপুর, আসানসোলসহ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় এখনও অনেক পরিবার এলপিজি সিলিন্ডারের জন্য অপেক্ষা করে। নতুন নিয়ম চালু হলে ডাবল কানেকশন ও উজ্জ্বলা গ্রাহকদের আরও সতর্ক হয়ে বুক করতে হবে। যাঁরা নিয়মিত সিলিন্ডার ব্যবহার করেন, তাঁদের জন্য এটি তেমন সমস্যা না হলেও, যাঁরা অতিরিক্ত মজুত রাখতেন, তাঁদের জন্য অসুবিধা হতে পারে।
গ্রাহকদের পরামর্শ: নিয়ম জেনে নিয়ে আগে থেকে বুকিং করুন, যাতে রান্নাঘরে কোনো অসুবিধা না হয়।




















