কলকাতা: সন্তানকে শাসন করা অভিভাবকের দায়িত্বেরই অংশ। কিন্তু সারাক্ষণ বকাঝকা, ধমক বা সমালোচনা করলে অনেক সময় শিশুর আচরণ আরও খিটখিটে ও বদমেজাজি হয়ে উঠতে পারে। মনোবিদদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে কার্যকর হতে পারে ‘৫:১ পেরেন্টিং রুল’ (5:1 Parenting Rule)। এই পদ্ধতির মূল লক্ষ্য হল শাসনের পাশাপাশি শিশুকে পর্যাপ্ত ইতিবাচক উৎসাহ ও ভালোবাসা দেওয়া।
কী এই ৫:১ পেরেন্টিং রুল (5:1 Parenting Rule)?
এই নিয়ম অনুযায়ী, শিশুকে একটি নেতিবাচক মন্তব্য বা বকুনি দিলে তার বিপরীতে অন্তত পাঁচটি ইতিবাচক মন্তব্য, প্রশংসা বা উৎসাহ দেওয়ার চেষ্টা করা উচিত।
এর অর্থ এই নয় যে ভুল করলে শাসন করা যাবে না। বরং শাসনের পাশাপাশি শিশুকে নিয়মিত বোঝানো দরকার যে সে পরিবারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ এবং তার ভালো কাজগুলিও সমানভাবে মূল্যায়ন করা হয়।
মনোবিদদের মতে, শিশুরা যখন শুধুই সমালোচনা শুনতে থাকে, তখন তাদের মধ্যে রাগ, অভিমান ও আত্মবিশ্বাসের অভাব তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে, প্রশংসা ও ইতিবাচক আচরণ তাদের বাবা-মায়ের কথা বুঝতে এবং নিয়ম মেনে চলতে উৎসাহিত করে।
Also Read | একই পটলের তরকারিতে বিরক্ত? বাড়িতেই সহজে বানান সুস্বাদু পনিরের দোলমা
কেন প্রয়োজন এই নিয়ম?
অভিভাবকেরা সাধারণত সন্তানের ভালোর জন্যই বকাঝকা করেন। যেমন
• হোমওয়ার্ক না করা
• অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার
• ভাইবোনের সঙ্গে ঝগড়া
• ঘর অগোছালো রাখা
• পড়াশোনায় অমনোযোগ
তবে শুধুমাত্র ভুল ধরিয়ে দিলে শিশুর মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে। তাই শাসনের পাশাপাশি ভালো কাজগুলিকেও গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
কীভাবে প্রশংসা করবেন?
মনোবিদদের পরামর্শ, শিশুর ছোট ছোট ভালো অভ্যাসও নজরে আনুন এবং তার প্রশংসা করুন। যেমন
• নিজের খেলনা বা বই গুছিয়ে রাখা
• না-পছন্দের খাবার খেয়ে নেওয়া
• সময়মতো পড়াশোনা করা
• মোবাইল কম ব্যবহার করা
• অন্যকে সাহায্য করা
এই ধরনের কাজের জন্য শিশুকে বলতে পারেন, “তুমি খুব ভালো কাজ করেছ”, “তোমার জন্য আমি গর্বিত” অথবা “এভাবেই চালিয়ে যাও”। মাথায় হাত বুলিয়ে দেওয়া, প্রিয় খাবার রান্না করে দেওয়া কিংবা সপ্তাহান্তে কোথাও বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার মতো ছোট পুরস্কারও শিশুর আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।
Also Read | অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় কীভাবে দিন শুরু করতেন সুরভি জ্যোতি? জানুন স্বাস্থ্যকর অভ্যাস
শুধু প্রশংসা নয়, দরকার ভারসাম্য
বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ৫:১ পেরেন্টিং রুল মানে ভুলকে প্রশ্রয় দেওয়া নয়। প্রয়োজন হলে শাসন অবশ্যই করতে হবে, তবে সেটি যেন অপমান, ভয় বা মারধরের মাধ্যমে না হয়। শান্তভাবে ভুল বুঝিয়ে বলা এবং ভালো কাজের স্বীকৃতি দেওয়ার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই এই পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য।
মনে রাখবেন
শিশুর ব্যক্তিত্ব গঠনে বাবা-মায়ের ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত সমালোচনার বদলে যদি উৎসাহ, প্রশংসা এবং ভালোবাসার পরিবেশ তৈরি করা যায়, তাহলে শিশুর আত্মবিশ্বাস বাড়ে, মানসিক চাপ কমে এবং বাবা-মায়ের সঙ্গে সম্পর্কও আরও দৃঢ় হয়।
বিঃদ্রঃ ‘৫:১ পেরেন্টিং রুল’ একটি বহুল আলোচিত ইতিবাচক অভিভাবকত্বের ধারণা। এটি উপকারী হতে পারে, তবে সব শিশুর আচরণ ও মানসিক চাহিদা একরকম নয়। শিশুর আচরণগত বা মানসিক সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে শিশু বিশেষজ্ঞ বা মনোবিজ্ঞানীর পরামর্শ নেওয়া উচিত।





