বিশ্বমানের পর্যটন গন্তব্য হতে চলেছে সুন্দরবন, বড় পরিকল্পনা রাজ্যের

কলকাতা: দার্জিলিংয়ের পর এবার সুন্দরবনকে (Sundarbans) বিশ্বমানের ইকো-অ্যাডভেঞ্চার ও ওয়েলনেস ট্যুরিজম গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বিশ্ব ম্যানগ্রোভ দিবস উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে…

sundarbans-world-class-eco-wellness-tourism-west-bengal-plan

কলকাতা: দার্জিলিংয়ের পর এবার সুন্দরবনকে (Sundarbans) বিশ্বমানের ইকো-অ্যাডভেঞ্চার ও ওয়েলনেস ট্যুরিজম গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বিশ্ব ম্যানগ্রোভ দিবস উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা করেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ।

মন্ত্রী জানান, কেন্দ্রের ‘ওয়ান স্টেট, ওয়ান ডেস্টিনেশন’ প্রকল্পে ইতিমধ্যেই দার্জিলিংকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এরপর তিনি কেন্দ্রীয় পর্যটনমন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত-এর কাছে রাজ্য থেকে আরও একটি পর্যটন কেন্দ্রকে এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন করেন।

Advertisements

শঙ্কর ঘোষ বলেন, কেন্দ্র সেই প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়েছে। বর্তমানে মন্দারমণি এবং সুন্দরবন, এই দুই পর্যটন কেন্দ্রের মধ্যে একটি বেছে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তবে সম্ভাবনা বেশি সুন্দরবনকেই আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার।

পরিবেশ রক্ষা করেই হবে উন্নয়ন

পর্যটনমন্ত্রী জানান, সুন্দরবনের উন্নয়নের আগে পুরো এলাকাকে বৈজ্ঞানিকভাবে ম্যাপিং করা হবে। এজন্য স্যাটেলাইট চিত্রের সাহায্য নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

তাঁর কথায়, উন্নয়নের ফলে যাতে সুন্দরবনের মূল্যবান ম্যানগ্রোভ বনভূমির কোনও ক্ষতি না হয়, সেদিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এজন্য একটি বিস্তারিত মানচিত্র বা ডায়াগ্রামভিত্তিক পরিকল্পনা তৈরি করা হবে, যাতে পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণও নিশ্চিত করা যায়।

যৌথভাবে তৈরি হবে উন্নয়ন পরিকল্পনা

শঙ্কর ঘোষ জানান, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সুন্দরবন উন্নয়ন পর্ষদ, রাজ্যের বন দফতর এবং পর্যটন দফতর যৌথভাবে কাজ করবে। সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বয়ে একটি বিস্তারিত উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করা হবে।

সরকারের লক্ষ্য, সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, জীববৈচিত্র্য এবং ম্যানগ্রোভ অরণ্যের স্বাতন্ত্র্য অক্ষুণ্ণ রেখে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে এটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে সুন্দরবনে পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, পর্যটনভিত্তিক অর্থনীতির বিকাশ এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এই উদ্যোগ।