আসন্ন দ্বিতীয় দফার বিধানসভা (CRPF Security Plan) ভোটকে সামনে রেখে প্রশাসন সর্বস্তরে প্রস্তুতি জোরদার করেছে। লক্ষ্য একটাই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ নির্বিঘ্ন, স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ রাখা। সেই উদ্দেশ্যেই কলকাতার ধনধান্য অডিটোরিয়ামে এক গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা। এই বৈঠককে ঘিরে প্রশাসনিক তৎপরতা এবং সমন্বয়ের ছবি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কলকাতার দুই জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (DEO), পাশাপাশি উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা নির্বাচন আধিকারিকরাও। এছাড়াও সিভিল ও পুলিশ সেক্টর অফিসার, জেনারেল ও স্পেশ্যাল অবজারভারদের উপস্থিতি এই বৈঠকের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়। ভোটের আগে এই ধরনের সমন্বয় বৈঠক প্রশাসনের প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। (CRPF Security Plan) পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা বৈঠকে স্পষ্ট করে দেন, ভোটের দিন আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় বাহিনী, অর্থাৎ CRPF-এর ভূমিকা কী হবে, তা নিয়েও সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোথায় কীভাবে মোতায়েন করা হবে, কোন পরিস্থিতিতে কীভাবে হস্তক্ষেপ করতে হবে—এসব বিষয় আগেভাগেই নির্ধারণ করা হয়েছে।
নির্বাচন মিটতেই উত্তপ্ত তুফানগঞ্জ! বিজেপি নেতার দোকানে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ
তিনি আরও জানান, ভোটের দিন যাতে কোনও (CRPF Security Plan) বিভ্রান্তি না তৈরি হয়, সেই কারণে প্রতিটি পুলিশ কর্মী ও আধিকারিককে একটি করে ‘পুলিশ অ্যারেঞ্জমেন্ট বুকলেট’ দেওয়া হয়েছে। এই বুকলেটে নিরাপত্তা সংক্রান্ত যাবতীয় নির্দেশিকা, দায়িত্ব বণ্টন এবং জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় বিষয়গুলি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ রয়েছে। ফলে মাঠে নামার আগে প্রত্যেক পুলিশ সদস্যই নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাচ্ছেন। বৈঠকে বাইক মিছিল সংক্রান্ত বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আগে বাইক মিছিলের ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলেও, কলকাতা হাইকোর্ট সেই নির্দেশে আংশিক পরিবর্তন এনেছে। পুলিশ কমিশনার জানান, আদালতের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে। আইন অনুযায়ী যা বলা হয়েছে, তার বাইরে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। এর ফলে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধা(CRPF Security Plan) দুটিই বজায় থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ভোটের দিন শহর ও সংলগ্ন এলাকায় নজরদারি আরও বাড়ানো হবে। গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর বুথগুলিতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি সিসিটিভি নজরদারি, কুইক রেসপন্স টিম এবং মোবাইল প্যাট্রোলিংয়ের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে। যাতে কোনও রকম অশান্তির পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, ভোটের আগে ও পরে বিভিন্ন এলাকায় ফ্ল্যাগ মার্চ এবং টহলদারি চালানো হচ্ছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা ও আস্থা ফিরিয়ে আনাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে বুথে গিয়ে ভোট দিতে পারেন, সেটাই প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার।




















