কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড আজ সাক্ষী থাকছে বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায়ের। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আজ মহাসমারোহে শপথ নিতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। আর এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে শুধু বাংলা নয়, গোটা দেশের রাজনৈতিক মহলেও তৈরি হয়েছে তীব্র আগ্রহ। কারণ, অনুষ্ঠানে উপস্থিত রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ । তাঁদের উপস্থিতিতেই শপথ নেবেন শুভেন্দু এবং রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা।
সকাল থেকেই ব্রিগেড চত্বরে জনসমুদ্রের ছবি ধরা পড়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার বিজেপি সমর্থক কলকাতায় পৌঁছেছেন। গেরুয়া পতাকা, ব্যানার, ঢাক-ঢোল এবং স্লোগানে মুখর গোটা এলাকা। বিজেপির দাবি, বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের এই মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতেই এই বিশাল আয়োজন। নিরাপত্তার দিক থেকেও নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন ব্যবস্থা। কলকাতা পুলিশ, বিশেষ বাহিনী এবং আধা সামরিক বাহিনীর কড়া নজরদারিতে মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা ব্রিগেড এবং সংলগ্ন এলাকা।
এই শপথ অনুষ্ঠানকে কার্যত জাতীয় স্তরের রাজনৈতিক মহাসমাবেশে পরিণত করেছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মুখ্যমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতি। বিজেপি সূত্রে খবর, অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসেছেন দেশের ২৩টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা। ফলে ব্রিগেডের মঞ্চ কার্যত হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক তারকাখচিত আসর।
মঞ্চে উপস্থিত রয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীণ , কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা, অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক শাহা , দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা , উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ
সবচেয়ে বেশি চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন প্রবীণ বিজেপি নেতা মাখনলাল সরকার । বিজেপি সূত্রে দাবি, তিনি একসময় শ্যামা প্রসাদ মুখার্জী-র কাশ্মীর যাত্রার সফরসঙ্গী ছিলেন। তাঁর উপস্থিতি অনুষ্ঠানে এক বিশেষ ঐতিহাসিক আবহ তৈরি করেছে। বিজেপির একাংশের মতে, বাংলার রাজনৈতিক পরিবর্তনের এই মুহূর্তে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শ এবং রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের প্রতীক হিসেবেই তাঁকে সামনে আনা হয়েছে।




















