কলকাতা: আক্রমণ-পালটা আক্রমণে উত্তপ্ত হয়ে উঠছেন রাজ্যের দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের আবহাওয়া৷ বিধানসভা নির্বাচনের মধ্যেই ফের বড়সড় অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবাসীয় প্রচারে তিনি বলেছেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী ভোটের পর অপরাধীদের সঙ্গে নিয়ে ইভিএম দখলের চেষ্টা করছে।
মমতার সরাসরি অভিযোগ
এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতায় এক অনুষ্ঠানে বলেন, “কেন্দ্রীয় বাহিনী বাংলায় অপরাধীদের এসকর্ট করে নিয়ে ইভিএম দখল করছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভোট শেষ হওয়ার পর কেন্দ্রীয় বাহিনীর কিছু সদস্য অসাধু উপায়ে ইভিএম-সংক্রান্ত অনিয়মে জড়িয়ে পড়ছে। মুখ্যমন্ত্রী এই ঘটনাকে গুরুতর বলে উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনের কাছে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
ভোট-পরবর্তী উত্তেজনা
প্রথম দফার ভোটে রেকর্ড ৯১.৯১ শতাংশ ভোট পড়ার পর রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ইভিএম নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়র এই অভিযোগ সেই বিতর্ককে আরও তীব্র করে তুলেছে। এদিন তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে, কোনও পক্ষপাতিত্ব করা চলবে না।
বিজেপি এখনও নিশ্চুপ
এখনও পর্যন্ত বিজেপির তরফে এই অভিযোগের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। তবে দলের নেতারা আগে এ ধরনের অভিযোগকে “তৃণমূলের মিথ্যা প্রচার ও ভয় দেখানোর চেষ্টা” বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা
নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে রাজ্যজুড়ে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে। ভোট-পরবর্তী নির্দেশিকায় সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ, স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর দায়িত্ব স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। কমিশনের তরফে বলা হয়েছে, যেকোনো অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক তদন্ত করা হবে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
প্রথম দফার ভোটে মহিলা ভোটারদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। দ্বিতীয় দফার ভোট আসন্ন। এই সময়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই অভিযোগ রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে। বিজেপি নেতারা অবশ্য বলছেন যে তৃণমূল পরাজয়ের আশঙ্কায় এ ধরনের অভিযোগ তুলছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, “আমরা ভোট চুরি হতে দেব না। জনগণের ভোট জনগণের কাছেই থাকবে।” তিনি দলের কর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।
সার্বিক পরিস্থিতি
নির্বাচন কমিশনের কড়া নজরদারি সত্ত্বেও রাজ্যের কয়েকটি জেলায় ভোট-পরবর্তী উত্তেজনা দেখা যাচ্ছে। ময়না, ইসলামপুরসহ কয়েকটি জায়গায় সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।
নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, সব অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফল ঘোষণার আগে পর্যন্ত শান্তি বজায় রাখতে সব পক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে। রাজ্যের ভোটাররা এখন অপেক্ষায় রয়েছেন যে এই অভিযোগের কোনো প্রমাণ মিলবে কি না এবং নির্বাচন কমিশন কতটা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে।




















