কলকাতা: দেশের অন্যতম প্রাচীন বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অফ সায়েন্স (IACS) তাদের ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বড় ঘোষণা করল। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ৩৩ একর জমির উপর দ্বিতীয় ক্যাম্পাস গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হতে চলা এই আধুনিক গবেষণা কেন্দ্রের নাম হবে ‘শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি অ্যাডভান্সড রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (SMART) ক্যাম্পাস’।
বুধবার ১৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের অনুষ্ঠানে IACS-এর অধিকর্তা কল্যাণবরণ মাইতি এই ঘোষণা করেন। তিনি জানান, নতুন ক্যাম্পাস তৈরির প্রস্তুতি গত পাঁচ-ছয় বছর ধরে চলছে। জমির ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে এবং এখন কেন্দ্রের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দফতরের (DST) চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষা।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, বারুইপুরের নতুন ক্যাম্পাসে থাকবে অত্যাধুনিক গবেষণাগার, সায়েন্স পার্ক, ছাত্র-ছাত্রী ও বাইরের গবেষকদের জন্য হোস্টেল, আবাসন এবং উন্নত গবেষণার পরিকাঠামো। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী তিন বছরের মধ্যে ক্যাম্পাসটি চালু করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
Also Read | CHESS Plus! স্কুলের বেঞ্চ থেকেই উঠে আসবে আগামী দিনের গ্র্যান্ডমাস্টার!
বর্তমানে যাদবপুরে IACS-এর মূল ক্যাম্পাসটি প্রায় ৯ একর জমির উপর বিস্তৃত এবং সেখানে প্রায় ১,০০০ জন গবেষক ও ছাত্রছাত্রী, যাঁদের অধিকাংশই পিএইচডি করছেন, পড়াশোনা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত। নতুন ক্যাম্পাস চালু হলে আরও ১,০০০ জন ছাত্রছাত্রীকে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ দেওয়া সম্ভব হবে। অন্য রাজ্যের ছাত্রছাত্রীরাও সেখানে পড়াশোনা করতে পারবেন।
IACS জানিয়েছে, নতুন ক্যাম্পাসে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স, স্বাস্থ্যবিজ্ঞান, ব্যাটারি প্রযুক্তি-সহ একাধিক আধুনিক গবেষণার ক্ষেত্র গড়ে তোলা হবে। এর ফলে দেশের বিজ্ঞান গবেষণায় নতুন দিগন্ত খুলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
Also Read | বিদেশ যাওয়ার জন্য অভিষেকের আদালতে দেওয়া সার্টিফিকেট জাল! দাবি মেডিকেল কাউন্সিলের
অনুষ্ঠানে উপস্থিত রাজ্যের তথ্যপ্রযুক্তি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং জৈবপ্রযুক্তি দফতরের মন্ত্রী কল্যাণ চক্রবর্তী বলেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যের গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলিকে আরও শক্তিশালী করতে চায়। তাঁর মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও নতুন প্রযুক্তির যুগে IACS ভবিষ্যতেও দেশের অন্যতম শীর্ষ গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
১৮৭৬ সালে ডা. মহেন্দ্রলাল সরকার কলকাতার বউবাজারে IACS প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পরবর্তীতে বিজ্ঞানী মেঘনাদ সাহা-র উদ্যোগে এবং তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায়-এর দেওয়া জমিতে ১৯৫০ সালে যাদবপুর ক্যাম্পাস গড়ে ওঠে। এই প্রতিষ্ঠানেই বিজ্ঞানী স্যার সি. ভি. রমন তাঁর ঐতিহাসিক ‘রমন এফেক্ট’ আবিষ্কার করেছিলেন, যার জন্য তিনি ১৯৩০ সালে নোবেল পুরস্কার পান।
Also Read | খালি পায়ে ইতিহাস, ১১৫ বছর পরেও অমর মোহনবাগান দিবসের গৌরব
IACS কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানের ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে শুরু হওয়া উদযাপন ২০২৮ সাল পর্যন্ত চলবে, যখন ‘রমন এফেক্ট’ আবিষ্কারের ১০০ বছর পূর্ণ হবে। নতুন বারুইপুর ক্যাম্পাস সেই দীর্ঘমেয়াদি বৈজ্ঞানিক উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।





