CHESS Plus! স্কুলের বেঞ্চ থেকেই উঠে আসবে আগামী দিনের গ্র্যান্ডমাস্টার!

মগজাস্ত্রে শান দিতে এবার ক্লাসরুমেই দাবার পাঠ! ৬৪ খোপের এই বুদ্ধিদীপ্ত লড়াই এবার জায়গা করে নিতে চলেছে স্কুলের চার দেওয়ালের অন্দরেও। পড়ুয়াদের বিশ্লেষণাত্মক এবং কৌশলগত…

chess-plus-project-launched-in-jawahar-navodaya-vidyalayas-by-education-ministry

মগজাস্ত্রে শান দিতে এবার ক্লাসরুমেই দাবার পাঠ! ৬৪ খোপের এই বুদ্ধিদীপ্ত লড়াই এবার জায়গা করে নিতে চলেছে স্কুলের চার দেওয়ালের অন্দরেও। পড়ুয়াদের বিশ্লেষণাত্মক এবং কৌশলগত দক্ষতার সার্বিক বিকাশে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রক। শুরু হল এক অভিনব পাইলট প্রজেক্ট ‘CHESS Plus’ (চ্যাম্পিয়নিং এক্সেলেন্স ইন স্পোর্ট স্কিলস)।

প্রাথমিকভাবে তিনটি অঞ্চলের মোট ৩০টি জওহর নবোদয় বিদ্যালয়ে (JNV) এই প্রকল্প চালু করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে হরিয়ানার ১৩টি, উত্তরপ্রদেশের ১৫টি এবং দিল্লির দু’টি স্কুল। সর্বভারতীয় দাবা ফেডারেশন (AICF) এবং নবোদয় বিদ্যালয় সমিতির সঙ্গে হাত মিলিয়ে এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে কেন্দ্র সরকার।

Advertisements

জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ (NEP 2020)-র অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হল পুঁথিগত বিদ্যার গণ্ডি পেরিয়ে পড়ুয়াদের ব্যবহারিক এবং দক্ষতা-ভিত্তিক শিক্ষায় শিক্ষিত করা। ‘CHESS+’ সেই লক্ষ্যেরই এক নিখুঁত বাস্তব রূপ। শিক্ষাক্ষেত্রে দাবাকে একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে পড়ুয়াদের মানসিক বিকাশের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে এই প্রকল্পে। এর প্রধান উদ্দেশ্য হল পড়ুয়াদের যুক্তিপূর্ণ চিন্তাভাবনা, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং বিশ্লেষণী শক্তির সার্বিক বিকাশ ঘটানো। দাবার বোর্ডের প্রতি মনোযোগ পড়ুয়াদের পড়াশোনাতেও মনঃসংযোগ বাড়াতে সাহায্য করবে এবং কঠিন পরিস্থিতিতে মাথা ঠান্ডা রেখে সমাধানের পথ খোঁজার দক্ষতা তৈরি করবে।

এই পাইলট প্রজেক্টের অধীনে, স্কুলের ক্লাসরুমে দাবার কৌশল শেখাবেন বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত কোচ এবং শিক্ষক-মেন্টররা। নিয়মিত সেশন পরিচালনার পাশাপাশি, পড়ুয়াদের জন্য বিভিন্ন দাবা প্রতিযোগিতা এবং স্কিল বিল্ডিং কার্যকলাপের সুযোগও থাকছে। এই উদ্যোগটি পড়ুয়াদের শিক্ষাগত এবং ব্যক্তিগত বৃদ্ধিতে ঠিক কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে, তা বিচার করার জন্য একটি নির্দিষ্ট মূল্যায়ন ব্যবস্থাও তৈরি রাখা হয়েছে।

প্রাথমিক পর্যায়ের এই পাইলট প্রজেক্টের ফলাফল বিশ্লেষণ করে, আগামী দিনে দেশের আরও বহু জওহর নবোদয় ও কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ে এই প্রকল্প ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে শিক্ষামন্ত্রকের। বিশ্বনাথন আনন্দ থেকে শুরু করে আজকের প্রজ্ঞানন্দ বা গুকেশ আন্তর্জাতিক আঙিনায় ভারতীয় দাবাড়ুদের দাপট এখন অবিসংবাদিত। সরকারি স্তরের এই নতুন উদ্যোগ সফল হলে, আগামী দিনের গ্র্যান্ডমাস্টাররা হয়তো তৈরি হবে দেশের প্রত্যন্ত স্কুলের এই বেঞ্চগুলো থেকেই। খেলাধুলো এবং বৌদ্ধিক বিকাশের এই মেলবন্ধন ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থায় নিঃসন্দেহে এক নতুন যুগের সূচনা করল।

Also Read |  পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব

Also Read | কংগ্রেসের কারণে কলকাতা ছাড়েন তসলিমা! বিস্ফোরক তৎকালীন শরিক সিপিএম নেতা

Also Read | IRCTC-এর ৯ দিনের তীর্থযাত্রা ট্রেন: জ্যোতির্লিঙ্গ থেকে দ্বারকা-অক্ষরধাম, ভাড়া ও রুট জানুন

Also Read | মিরিক লেককে আরও সুন্দর করতে ১০০কোটির পর্যটন প্রকল্প শুভেন্দু সরকারের