পুলিশের পোশাক জাল করে যন্তরমন্তরে নাশকতার ছক! হামিমকে নিয়ে ভয়ঙ্কর তথ্য STF র

কলকাতা: ধৃত জঙ্গি হামিমকে (Hamim Mondal)নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে এসটিএফের আইজি গৌরব শর্মা চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছেন।…

hamim-mondal-jantar-mantar-plot

কলকাতা: ধৃত জঙ্গি হামিমকে (Hamim Mondal)নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে এসটিএফের আইজি গৌরব শর্মা চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছেন। দিল্লির যন্তর মন্তরে তথাকথিত ছাত্র প্রতিবাদ আন্দোলনের মধ্যে পুলিশের পোশাক পরে নাশকতার পরিকল্পনা করেছিলেন বর্ধমানের ২৪ বছরের যুবক হামিম মণ্ডল। এখন বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে কি করে কথা থেকে পুলিশের পোশাক পেল হামিম। অনেকেই অভিযোগ করছেন পুলিশের পোশাকের আড়ালে নাশকতা চালানো এত সহজ কি করে হয় ?

শুধু তাই নয়, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও টার্গেট করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন এসটিএফের শীর্ষ কর্মকর্তা।শুক্রবার বর্ধমান থেকে গ্রেফতার করা হয় হামিম মণ্ডলকে। রাতেই তাঁকে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়। তাঁর মোবাইল ফোন, বিভিন্ন ডিভাইস এবং সোশ্যাল মিডিয়ার চ্যাট হিস্ট্রি খতিয়ে দেখে ভয়ঙ্কর তথ্য উঠে এসেছে।

Advertisements

আরও দেখুনঃ আগামী সপ্তাহেই বিদেশি অর্থের অপব্যবহার রোধের বিল পেশ করবেন শাহ

এসটিএফ জানিয়েছে, হামিমের সঙ্গে পাকিস্তানের একাধিক হ্যান্ডলারের যোগাযোগ ছিল। তিনি মাদক সন্ত্রাসের সঙ্গে যুক্ত শাহজাহাদ ভাট্টির গ্যাংয়ের সদস্যদের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রামসহ এনক্রিপ্টেড অ্যাপের মাধ্যমে এই যোগাযোগ চলত।আইজি গৌরব শর্মা বলেন, “হামিমের মোবাইলে যা পাওয়া গেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গতিবিধি রেকর্ড করা হয়েছিল।

তাঁকে টার্গেট করার পরিকল্পনাও ছিল। এছাড়া হাওড়ার এক মন্ত্রীকেও টার্গেট করা হয়েছিল। যন্তর মন্তরে পুলিশের পোশাকে ঢুকে নাশকতা চালানোর ছক কষা হয়েছিল।” এসটিএফের তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, হামিম যুব সম্প্রদায়কে উগ্র মৌলবাদী চিন্তায় উদ্বুদ্ধ করা, অস্ত্র পাচার এবং নাশকতার পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

আরও দেখুনঃ জাতীয় নিরাপত্তার অদৃশ্য রক্ষক অজিত দোভালকে লোকমান্য তিলক জাতীয় পুরস্কার

এই চক্রে ‘রানা’, ‘আবির’, ‘হাবিব’, ‘৩৩৩’ নামে বিভিন্ন হ্যান্ডলারের নাম উঠে এসেছে। এসটিএফ জানিয়েছে, হানি ট্র্যাপের মাধ্যমে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ফাঁসানোর কাজও চলত এই চক্রে। সেই কাজে অর্পিতা সরকারকে ব্যবহার করা হতো কি না, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে। শনিবার সকালে অর্পিতা সরকারকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। এসটিএফ সূত্রে জানা গেছে, গত চার বছর ধরে হামিমের সঙ্গে অর্পিতার যোগাযোগ ছিল।

ইনস্টাগ্রামে আলাপের পর সম্পর্ক গড়ে ওঠে।এই গ্রেফতারকে বাংলার নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য বড় সাফল্য বলে মনে করা হচ্ছে। এসটিএফের আইজি জানিয়েছেন, এই চক্রটি শুধু বাংলা নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সক্রিয় ছিল। যুবকদের মগজধোলাই করে উগ্রপন্থায় ঠেলে দেওয়া, মাদকের কারবার এবং নাশকতামূলক কার্যকলাপ সবকিছুই এই চক্রের অংশ।

আরও দেখুনঃ রাজ্যে জনগণনার সূচনা মুখ্যমন্ত্রীর, ‘সেল্ফ এনিউমারেশন’ করে দিলেন সুরক্ষার আশ্বাস

রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে এই খবর তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে এই ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। স্বরাষ্ট্র দফতরও বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে দেখছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অনেকে বলছেন, “এই ধরনের চক্র যত তাড়াতাড়ি ধরা পড়বে, ততই ভালো। আমরা শান্তিতে বাঁচতে চাই।” আবার কেউ কেউ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলছেন, “যুব সমাজকে এই চক্র থেকে দূরে রাখতে হবে।”