আগামী সপ্তাহেই বিদেশি অর্থের অপব্যবহার রোধের বিল পেশ করবেন শাহ

নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আগামী সপ্তাহে লোকসভায় বিদেশি অর্থায়ন নিয়ন্ত্রণ আইন(FCRA) সংশোধনী বিল পেশ করতে চলেছেন। এই বিলটি দেশের এনজিও ও অলাভজনক সংস্থাগুলোর জন্য…

fcra-amendment-bill-2026

নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আগামী সপ্তাহে লোকসভায় বিদেশি অর্থায়ন নিয়ন্ত্রণ আইন(FCRA) সংশোধনী বিল পেশ করতে চলেছেন। এই বিলটি দেশের এনজিও ও অলাভজনক সংস্থাগুলোর জন্য নতুন নিয়মকানুন আনবে। সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হল লাইসেন্স নবায়নের শর্ত পূরণ করতে না পারলে সরকারের হাতে সেই সংস্থার সম্পত্তি পরিচালনা, তত্ত্বাবধান, বিক্রি এমনকি স্থায়ীভাবে হস্তান্তর করার পূর্ণ ক্ষমতা থাকবে।

সরকারের যুক্তি, এই সংশোধনী বিদেশি অর্থের অপব্যবহার (FCRA)রোধ করবে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে। বর্তমানে এফসিআরএ আইনের অধীনে হাজার হাজার এনজিও বিদেশ থেকে অনুদান নিয়ে কাজ করে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ ওঠে যে, এই টাকা সঠিকভাবে ব্যবহার হয় না। কখনো কখনো জাতীয় নিরাপত্তা, ধর্মান্তকরণ বা অন্যান্য বিতর্কিত কাজে এই অর্থ ব্যবহৃত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

Advertisements

আরও দেখুনঃ যোগী রাজ্যে ওয়াকফ বোর্ডের দুর্নীতি ফাঁস করে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি খোদ মৌলানা রাজভি

নতুন বিল পাস হলে লাইসেন্স নবায়ন (FCRA)না করতে পারা সংস্থাগুলোর ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ অনেক বেড়ে যাবে।অমিত শাহের নেতৃত্বাধীন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক দীর্ঘদিন ধরে এফসিআরএ আইনকে আরও কঠোর করার চেষ্টা করছে। আগের সংশোধনীতেও অনেক নিয়ম জোরদার করা হয়েছিল। এবারের প্রস্তাবিত বিলে যদি কোনো এনজিও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লাইসেন্স নবায়ন করতে না পারে বা শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে সরকার সরাসরি সেই সংস্থার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, সম্পত্তি, অফিস এবং অন্যান্য সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।

প্রয়োজনে সেগুলো বিক্রি বা অন্য কোনো সংস্থার কাছে স্থানান্তর করার ক্ষমতাও থাকবে।এনজিও কর্মীরা এই প্রস্তাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অনেকে বলছেন, এতে সরকারের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা চলে যাবে। একজন সিনিয়র এনজিও প্রতিনিধি বলেন, “আমরা স্বচ্ছতা চাই। কিন্তু এই ধরনের ক্ষমতা এনজিওদের কাজকে ভয়ের পরিবেশে ফেলে দিতে পারে।”

আরও দেখুনঃ ‘রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বললেই কাশ্মীরে জঙ্গি হানা হয়!’ বিতর্ক উস্কালেন ফারুখ

অন্যদিকে, সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, এই ব্যবস্থা শুধু অসাধু সংস্থাগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করবে। সৎ ও স্বচ্ছ এনজিওদের কোনো সমস্যা হবে না।এফসিআরএ আইনের অধীনে বিদেশি অনুদান নেওয়ার জন্য নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। প্রতি পাঁচ বছর অন্তর নবায়ন করতে হয়। অনেক এনজিওর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা নিয়ম মানে না বা অর্থের হিসাব দিতে ব্যর্থ হয়। সরকারের তথ্য অনুসারে, গত কয়েক বছরে শতাধিক এনজিওর লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। নতুন বিল এই প্রক্রিয়াকে আরও সুসংগঠিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।