পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পর রবিবার এক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে পূর্ব মেদিনীপুরে যাচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) । রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই এই সফরকে ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে, নিহত চন্দ্রনাথ রথের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতেই তাঁর এই সফর। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার গ্রামের বাড়িতে গিয়ে চন্দ্রনাথ রথের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলবেন তিনি এবং তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেবেন বলেই রাজনৈতিক সূত্রে খবর।
চন্দ্রনাথ রথের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় মানুষজনের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকার বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার যেমন ভেঙে পড়েছে, তেমনই শোকস্তব্ধ এলাকাবাসীও। এই পরিস্থিতিতে শুভেন্দু অধিকারীর সেখানে যাওয়া রাজনৈতিক ও মানবিক (Suvendu Adhikari) দুই দিক থেকেই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। সূত্রের খবর, রবিবার সকালে কলকাতা থেকে রওনা দিয়ে প্রথমে পূর্ব মেদিনীপুরের ওই গ্রামে পৌঁছাবেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে চন্দ্রনাথ রথের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কিছু সময় কাটাবেন তিনি। পাশাপাশি তাঁদের অভাব-অভিযোগের কথাও শুনবেন বলে জানা গিয়েছে। পরিবারের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাসও দিতে পারেন তিনি। যদিও এই সফর নিয়ে সরকারি ভাবে এখনও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি, তবুও স্থানীয় প্রশাসন এবং রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে।
চন্দ্রনাথ রথের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পর নিজের বিধানসভা কেন্দ্র নন্দীগ্রামেও যাবেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজনৈতিক মহলের মতে, শপথ গ্রহণের পর নন্দীগ্রামে তাঁর এই সফর যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ নন্দীগ্রাম শুধু তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রই নয়, রাজ্যের রাজনীতিতেও এই কেন্দ্রের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। সেখানে গিয়ে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গেও দেখা করতে পারেন তিনি।
নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর সফর ঘিরেও দলীয় কর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস চোখে পড়ছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, বিভিন্ন এলাকায় তাঁর স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। একাধিক কর্মসূচিও থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। যদিও তাঁর সফরের পূর্ণাঙ্গ সূচি এখনও প্রকাশ করা হয়নি, তবুও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরের মাধ্যমে শুভেন্দু অধিকারী একদিকে যেমন মানবিক বার্তা দিতে চাইছেন, অন্যদিকে তেমনই নিজের রাজনৈতিক জমিকেও আরও শক্ত করতে চাইছেন।




















