রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর প্রশাসনিক মহলে যে বড়সড় রদবদল আসতে চলেছে, তার ইঙ্গিত আগেই মিলেছিল। মুখ্যমন্ত্রী পদে শুভেন্দু অধিকারীর শপথ গ্রহণের পর সেই জল্পনাই কার্যত বাস্তবে পরিণত হল। কলকাতা পুলিশের (Kolkata Police Transfer) বিভিন্ন পদমর্যাদার ৯৩ জন অফিসারের বদলির নির্দেশ জারি হতেই প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, এই বদলির তালিকায় রয়েছেন ডিসি পদমর্যাদার আধিকারিক থেকে শুরু করে অফিসার ইনচার্জ, সাব-ইন্সপেক্টর এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা পুলিশ অফিসাররা।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, যাঁদের বদলি (Kolkata Police Transfer) করা হয়েছে তাঁদের অনেকেই আগের শাসকদলের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ছিলেন। পাশাপাশি পুলিশ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গেও তাঁদের সক্রিয় যোগাযোগ ছিল বলে খবর। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই এই রদবদলকে রাজনৈতিক মহলের একাংশ “প্রশাসনিক বার্তা” হিসেবেই দেখছে। যদিও সরকারি ভাবে বদলির কারণ নিয়ে এখনও কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
যে তালিকা সামনে এসেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে বদলি হওয়া অফিসারদের বড় অংশকেই উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে। কোচবিহার, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং ও আলিপুরদুয়ারে তাঁদের পোস্টিং দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। শুধু উত্তরবঙ্গই নয়, সুন্দরবন লাগোয়া এলাকা এবং পশ্চিমাঞ্চলের পুরুলিয়ার মতো জেলাতেও একাধিক অফিসারকে বদলি করা হয়েছে। প্রশাসনিক পর্যবেক্ষকদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ শহুরে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দূরবর্তী জেলায় পাঠানোকে অনেকেই তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবেই দেখছেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রশাসনের উপর নিজের নিয়ন্ত্রণ দ্রুত প্রতিষ্ঠা করার দিকেই এগোচ্ছেন। বিশেষ করে পুলিশ প্রশাসনের ক্ষেত্রে প্রথম ধাপেই এত বড় রদবদল যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে পুলিশ বিভাগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে নতুন সরকার শুরুতেই নিজেদের বার্তা স্পষ্ট করতে চাইছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এদিকে শুধু বদলিই নয়, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকেও বসছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার নবান্ন সভাঘরে একের পর এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের সূচি রয়েছে তাঁর। দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজ্যের বিভিন্ন দফতরের সচিবদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন শুভেন্দু অধিকারী। প্রশাসনিক কাজের অগ্রগতি, দফতরভিত্তিক পরিকল্পনা এবং আগামী দিনের রূপরেখা নিয়েই সেখানে আলোচনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এরপর দুপুর দেড়টায় বিধায়কদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকেরও আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে সরকারের রাজনৈতিক কর্মপদ্ধতি এবং বিভিন্ন জেলার সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে সূত্রের খবর। পাশাপাশি বিকেল ৪টেয় রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনিক কাজে গতি আনা, সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকগুলির মধ্যে একটি হতে চলেছে বিকেল ৫টার বৈঠক। সেখানে ডিজিপি-সহ রাজ্যের শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন শুভেন্দু অধিকারী। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, প্রশাসনিক নজরদারি এবং পুলিশ বিভাগের ভবিষ্যৎ কর্মপদ্ধতি নিয়ে সেখানে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিতে পারেন তিনি। প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, শুরুতেই কড়া বার্তা দিতে পারেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী।
এছাড়াও শুক্রবার নবান্নে নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। সেখানে সরকারের আগামী দিনের অগ্রাধিকার এবং নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা হতে পারে। অন্যদিকে দায়িত্ব নেওয়ার পরই মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। ফলে স্পষ্ট, প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ শক্ত হাতে ধরতেই শুরু থেকেই সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছেন তিনি।




















