কলকাতা: শহরজুড়ে চলা দখলদারি বিরোধী অভিযানের আবহে এবার বড়বাজারে (Burrabazar) ফুটপাত ও রাস্তা খালি করার নির্দেশ দিল পুলিশ। জোড়াসাঁকো থানার পুলিশ মুক্তারাম বাবু স্ট্রিট, রাম মন্দির সংলগ্ন এলাকা-সহ বড়বাজারের একাধিক জায়গায় গিয়ে ব্যবসায়ী, দোকানদার ও হকারদের পণ্যের উপর টাঙানো প্লাস্টিকের ত্রিপল খুলে ফেলতে বলে৷ পাশাপাশি ফুটপাত ও রাস্তার দখল সরাতে এবং দোকানের বাইরে বেআইনি সম্প্রসারণ ভেঙে ফেলতে মৌখিক নির্দেশ দেয়।
এই নির্দেশের পর থেকেই ব্যবসায়ী ও হকারদের একাংশের মধ্যে বুলডোজার বা পেলোডার দিয়ে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের তথ্যও সংগ্রহ করল পুলিশ
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযানের সময় কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও দোকান মালিকের নাম-পরিচয়ও নথিভুক্ত করেন। বড়বাজারের সরু গলি, ফুটপাত ও রাস্তার একাংশ দীর্ঘদিন ধরেই দোকানের মালপত্র এবং হকারদের দখলে থাকায় পথচারীদের চলাচল ও জরুরি পরিষেবার কাজে সমস্যা হচ্ছে বলে অভিযোগ। এক পুলিশ আধিকারিক জানান, এদিন শুধুমাত্র মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী পদক্ষেপ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নেওয়া হবে।
কেন প্লাস্টিক সরানোর নির্দেশ?
পুলিশের দাবি, বর্ষাকালে অধিকাংশ হকার বৃষ্টির হাত থেকে পণ্য বাঁচাতে প্লাস্টিকের ত্রিপল ব্যবহার করেন। কিন্তু এই প্লাস্টিক অত্যন্ত দাহ্য হওয়ায় আগুন লাগার ঝুঁকি বাড়ায়। পাশাপাশি সরু গলির উপর প্লাস্টিক টাঙানো থাকলে দমকলের কাজ এবং উদ্ধার অভিযানেও বাধা সৃষ্টি হয়।
তবে হকারদের বক্তব্য, প্লাস্টিক না থাকলে বৃষ্টিতে পণ্য ও দোকানের আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে যাবে। তবুও পুলিশের নির্দেশ মেনেই তারা প্লাস্টিক খুলে ফেলতে বাধ্য হচ্ছেন।
আতঙ্কে ব্যবসায়ী ও হকাররা
মুক্তারাম বাবু স্ট্রিট-সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ মোড়ে চাটের দোকান চালানো এক ব্যবসায়ী বলেন, “সরকার যদি বুলডোজার নিয়ে এসে দোকান ভেঙে দেয়, তাহলে আমাদের পরিবার কীভাবে চলবে? আমিই পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী।”
অন্য এক ব্যবসায়ীরও আশঙ্কা, সম্প্রতি শহরের বিভিন্ন জায়গায় যেভাবে পেলোডার ব্যবহার করে উচ্ছেদ অভিযান চলছে, বড়বাজারেও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
পুলিশ এলাকা ছাড়ার আগেই অনেক হকার প্লাস্টিক সরাতে শুরু করেন। বহু দোকানদারও ফুটপাত ও রাস্তার উপর রাখা মালপত্র দোকানের ভিতরে নিয়ে যেতে দেখা যায়।
পথচারীদের স্বস্তির আশা
অন্যদিকে, নিয়মিত বড়বাজারে যাতায়াতকারী অনেকের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই ফুটপাত কার্যত দখল হয়ে থাকায় পথচারীদের রাস্তায় নেমে চলতে হয়। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। তাঁদের মতে, ফুটপাত দখলমুক্ত হলে সাধারণ মানুষের চলাচল অনেক বেশি নিরাপদ হবে।
আগুনের ঘটনার পর বাড়তি সতর্কতা
উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে বড়বাজারে একাধিক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গত বছর এজরা স্ট্রিট এবং মেছুয়া এলাকার একটি হোটেলে আগুনে প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার পর থেকেই এলাকায় অগ্নি-নিরাপত্তা এবং দখলমুক্তকরণ নিয়ে প্রশাসনের নজরদারি আরও জোরদার হয়েছে।
Also Read | সন্ত্রাসবাদ অর্থায়নে ফের নজরে বাংলা! কালিকাপুরের মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার ৪০লক্ষ নগদ-১৮০ গ্রামের সোনার মুদ্রা
Also Read | পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব
Also Read | কংগ্রেসের কারণে কলকাতা ছাড়েন তসলিমা! বিস্ফোরক তৎকালীন শরিক সিপিএম নেতা





