এবার কি জেটি দুর্নীতির নতুন কেন্দ্র হয়ে উঠছে ডায়মন্ড হারবার? (Arjun Singh) এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যে। জেটি নির্মাণ ও বিল সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ সামনে আসতেই নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার এই গুরুত্বপূর্ণ এলাকায়।
বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন পরিবহন মন্ত্রী। তাঁর দাবি, ডায়মন্ড হারবারে জেটি নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিপুল আর্থিক অনিয়ম হয়েছে। শুধু তাই নয়, অভিযোগের তীর মূলত পূর্বতন সরকারের দিকেই। পরিবহন মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, যে প্রকল্পে বাস্তবে খরচ হয়েছে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা, সেই একই কাজের জন্য বিল দেখানো হয়েছে প্রায় দেড় কোটি টাকার কাছাকাছি। এই বিশাল পার্থক্য নিয়েই এখন উঠছে প্রশ্ন এটা কি শুধুই প্রশাসনিক গাফিলতি, নাকি পরিকল্পিত দুর্নীতির উদাহরণ? এই অভিযোগের জবাবে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন অর্জুন সিং (Arjun Singh) । তাঁর দাবি, “যেখানে ২০ লক্ষ টাকায় কাজ হওয়ার কথা, সেখানে দেড় কোটি টাকার বিল করা হয়েছে। আর সেই জেটিই পরে ভেঙে গেছে।” তাঁর সাফ অভিযোগ, এই পুরো ব্যবস্থার পিছনে বড়সড় দুর্নীতির চক্র কাজ করছে, যা শুধুমাত্র একটি প্রকল্প নয়, বরং একাধিক জেটি নির্মাণ প্রকল্পে ছড়িয়ে থাকতে পারে। (Arjun Singh) এই ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ডায়মন্ড হারবারের কুকরাহাটি জেটি ঘাট। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, ২০২০ সালের মে মাসে ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে এই জেটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং একসময় ভেঙেও যায়। পরে সেটিকে পুনর্নির্মাণ করা হয় এবং ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ফের চালু করা হয়। কিন্তু অভিযোগ উঠছে, এই পুনর্নির্মাণের খরচ এবং গুণমান নিয়েই বড় ধরনের অনিয়ম হয়েছে।
স্থানীয় যাত্রীদের বক্তব্যও এই অভিযোগকে আরও (Arjun Singh) জোরালো করেছে। এক যাত্রী ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “২০ থেকে ৫০ লক্ষ টাকার কাজ হতে পারে, কিন্তু আমি শুনেছি দেড় কোটি টাকা বিল করা হয়েছে। এখানে টয়লেট, পানীয় জলের মতো মৌলিক সুবিধাও নেই। শুধু টাইলস আর সামান্য কাজ হয়েছে। এত টাকা খরচ কীভাবে হয়?” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, সাধারণ মানুষও এই প্রকল্পের ব্যয় নিয়ে সন্দিহান।
আরেকজন যাত্রী আরও বিস্ফোরক দাবি করে বলেন, “ডায়মন্ড হারবার, রায়চক এমন বহু জেটি আছে। অনেক জেটি এক বছরের মধ্যেই কার্যত অকেজো হয়ে গেছে বা উধাও হয়ে গেছে।” এই ধরনের অভিযোগে স্থানীয় স্তরে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে যাতায়াত ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল সাধারণ মানুষদের মধ্যে।



