তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) ফের বিদেশ সফরের অনুমতির জন্য কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। চোখের চিকিৎসার উদ্দেশ্যে প্রায় এক সপ্তাহের জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে তিনি আবেদন জানিয়েছেন। মঙ্গলবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে এই আবেদন জমা পড়ে বলে জানা গিয়েছে। আদালত সূত্রে খবর, আগামীকাল এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজ্য রাজনীতির বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ঘটনা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। একদিকে যখন বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা চলছে, অন্যদিকে (Abhishek Banerjee) দলের শীর্ষ নেতৃত্বের এই বিদেশ সফর সংক্রান্ত আবেদন ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। বিরোধী শিবিরের দাবি, নির্বাচনের আগে শাসকদলের ভিতরে চাপ ও অস্থিরতা ক্রমেই বাড়ছে। যদিও তৃণমূল নেতৃত্ব বরাবরই এই ধরনের দাবি খারিজ করে দিয়েছে এবং জানিয়েছে, দল সংগঠিত এবং শক্ত অবস্থানেই রয়েছে।
আইনগত দিক থেকে দেখলে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) বিদেশ সফরের বিষয়টি নতুন নয়। এর আগেও একাধিকবার তিনি আদালতের অনুমতি নিয়ে বিদেশে গিয়েছেন চোখের চিকিৎসার জন্য। জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে সুপ্রিম কোর্ট একটি নির্দেশে বলেছিল যে, বিদেশে যাওয়ার আগে তাঁকে এবং তাঁর স্ত্রী রুজিরাকে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটকে জানাতে হবে। সেই সময় বিদেশে চিকিৎসার জন্য তিনি ইডিকে চিঠিও দিয়েছিলেন। (Abhishek Banerjee) পরে অভিযোগ ওঠে, ইডির তরফে কোনও উত্তর না মেলায় বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হয় এবং সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি নিয়ে তিনি বিদেশে যান।
বর্তমান পরিস্থিতিতে (Abhishek Banerjee) বিষয়টি আরও জটিল হয়েছে কারণ ২০২৬ সালের নির্বাচনী প্রচারে উস্কানিমূলক মন্তব্য সংক্রান্ত একটি মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট আগেই নির্দেশ দিয়েছে, আদালতের অনুমতি ছাড়া তিনি বিদেশে যেতে পারবেন না। সেই নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতেই এবার নতুন করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর আবেদনে উল্লেখ করেছেন, চোখের চিকিৎসা অত্যন্ত জরুরি এবং সেই কারণে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিদেশে যাওয়া প্রয়োজন। সাধারণত এই ধরনের চিকিৎসা সংক্রান্ত সফরের ক্ষেত্রে আদালত মানবিক দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে, তবে প্রতিটি ক্ষেত্রে আইনি শর্ত এবং তদন্ত সংস্থার মতামতও গুরুত্ব পায়।



