২১ জুলাই কলকাতায় তিন বড় সমাবেশ, শহরের প্রাণকেন্দ্রে তীব্র যানজটের আশঙ্কা

কলকাতা: ২১ জুলাই শহিদ দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে হতে চলেছে তিনটি বড় রাজনৈতিক সমাবেশ। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস, অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন…

21-july-martyrs-day-kolkata-three-rallies-traffic-advisory

কলকাতা: ২১ জুলাই শহিদ দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে হতে চলেছে তিনটি বড় রাজনৈতিক সমাবেশ। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস, অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠী, পাশাপাশি কংগ্রেস, তিন পক্ষই একই দিনে আলাদা কর্মসূচি রেখেছে। ফলে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যান চলাচলে বড়সড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের মূল শিবিরের সমাবেশ হবে নন্দন ও বিড়লা তারামণ্ডলের কাছে ক্যাথিড্রাল রোডে। বিদ্রোহী তৃণমূলের সভা হবে মেয়ো রোডে, আর কংগ্রেসের কর্মসূচি রয়েছে শহিদ মিনার ময়দানে। তিনটি সমাবেশই দুপুর নাগাদ শুরু হওয়ার কথা।

সমাবেশের আগের দিন সোমবার মঞ্চ পরিদর্শনে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, তাঁরা প্রথমে ভিক্টোরিয়া হাউস, পরে ডোরিনা ক্রসিং এবং শেষে মেয়ো রোডে সভার অনুমতি চেয়েও পাননি। তাঁর দাবি, অন্য অনুষ্ঠানের জন্য দীর্ঘদিন রেড রোড বন্ধ রাখা হলেও তাঁদের ক্ষেত্রে অনুমতি দেওয়া হয়নি।

মমতা বলেন, “অনেকে বলছেন আমাদের অস্তিত্ব শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু আমরা ছিলাম, আছি এবং থাকব। ২১ জুলাই থেকেই নতুন লড়াইয়ের সূচনা হবে। সমাজবিরোধীদের হাত থেকে গণতন্ত্রকে বাঁচাতে হবে।”

তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ দাবি করেন, ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাইয়ের ঘটনা ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর সমর্থকদের উপর পরিকল্পিত আক্রমণ। তাঁর কথায়, শহিদদের স্মৃতি আজও জীবন্ত রেখেছেন মমতাই এবং সেই সময় শহিদ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তিনিই।

অন্যদিকে বিদ্রোহী তৃণমূল শিবিরের নেতা তথা রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক আখরুজ্জামান জানান, তাঁদের মঞ্চে কোনও রাজনৈতিক নেতার ছবি থাকবে না। পরিবর্তে মহাত্মা গান্ধী, ড. বি. আর. আম্বেদকর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের ছবি থাকবে। পাশাপাশি ১৯৯৩ সালের শহিদদের নামও প্রদর্শন করা হবে এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের বিশেষভাবে সম্মান জানানো হবে।

এদিকে কংগ্রেসের দাবি, শহিদ মিনারের সমাবেশ সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বৃহত্তম জনসভা হতে চলেছে। তিনটি সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিশেষ ট্রাফিক পরিকল্পনা করেছে কলকাতা পুলিশ। ইতিমধ্যেই ক্যাথিড্রাল রোডের একাংশ এবং মেয়ো রোডের একটি অংশ ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে
• ক্যাথিড্রাল রোডের সমাবেশে আসা গাড়ি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় রোড ও কুইন্সওয়ে এলাকায় পার্ক করা হবে।
• মেয়ো রোডের সভায় আসা গাড়ির জন্য জওহরলাল নেহরু রোড ও নিউ রোডের দু’পাশে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
• শহিদ মিনারের সমাবেশে যোগ দিতে আসা যানবাহন বঙ্গবাসী ও গঙ্গাসাগর ময়দানে রাখা হবে।

তবে কিডারপুর রোড–রেড রোড–ডাফরিন রোড এবং জওহরলাল নেহরু রোড-রানি রাসমণি অ্যাভিনিউ-চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ যান চলাচলের জন্য খোলা থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

একই দিনে শহরের কেন্দ্রে তিনটি বড় রাজনৈতিক সমাবেশ হওয়ায় এসপ্ল্যানেড, ধর্মতলা, ময়দান, এক্সাইড মোড়, পার্ক স্ট্রিট, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল সংলগ্ন এলাকা এবং ভিআইপি রুটগুলিতে সকাল থেকেই ব্যাপক যানজটের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই প্রয়োজন ছাড়া ওই এলাকায় না যাওয়া এবং বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছে ট্রাফিক পুলিশ।