কলকাতা: এলপিজি (LPG) সংকটে কার্যত দিশেহারা কলকাতা। রান্নার গ্যাসের অনিয়মিত সরবরাহ আর বুকিং সংক্রান্ত জটিলতায় নাভিশ্বাস উঠছে আমজনতার। এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিকল্প জ্বালানির বাজারে। দীর্ঘ কয়েক বছর পর শহরের রেশন দোকানগুলোতে কেরোসিন তেলের জন্য দেখা যাচ্ছে উপচে পড়া ভিড়।
বেহালার বুড়োশিবতলায় নজিরবিহীন চাহিদা
দক্ষিণ কলকাতার বেহালা সংলগ্ন বুড়োশিবতলা এলাকায় গত বৃহস্পতিবার এক অভূতপূর্ব দৃশ্য দেখা গেল। প্রায় ৪০ বছরের পুরনো একটি কেরোসিন দোকানে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে বিক্রি হয়ে গেছে প্রায় ৬০০ লিটার তেল। দোকানের মালিক জানিয়েছেন, সাধারণ দিনে যেখানে বড়জোড় ৫০ থেকে ৬০ লিটার তেল বিক্রি হয়, সেখানে বৃহস্পতিবার সেই চাহিদা বেড়েছে দশ গুণ।
সকাল থেকেই দোকানের সামনে রেশন কার্ডধারীদের দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। মজুত রাখা তেল দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ায় অনেক ক্রেতাকেই খালি হাতে ফিরে যেতে হয়েছে। ডিলারদের বক্তব্য, গত এক-দুই মাস ধরে যে তেল অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে ছিল, গ্যাসের সংকটে রাতারাতি তার চাহিদা আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে।
কেন এই হাহাকার? Kolkata LPG Gas Crisis
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিশেষ করে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি সরবরাহে টান পড়েছে। এর রেশ ধরেই গত ১০ মার্চ কেন্দ্রীয় সরকার বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহে সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করে। এরপর থেকেই কলকাতায় গৃহস্থালি গ্যাসের সিলিন্ডার পাওয়া নিয়েও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বর্তমান পরিস্থিতির প্রধান চিত্র
গত ১১ মার্চ থেকে বহু গ্রাহক অভিযোগ করেছেন যে, রান্নার গ্যাসের বুকিং বা হেল্পলাইন নম্বরগুলো কাজ করছে না।গ্যাস না পেয়ে বিকল্প হিসেবে বৈদ্যুতিক উনুন বা ইন্ডাকশনের দিকে ঝুঁকছেন সাধারণ মানুষ। শহরের ইলেকট্রনিক্স দোকানগুলোতেও টান পড়েছে মজুত মালে।
বর্তমানে কলকাতায় প্রতি লিটার কেরোসিনের দাম প্রায় ৬৪.২০ টাকা। এলপিজির অনিশ্চয়তায় অনেকেই এখন নিশ্চিত জ্বালানি হিসেবে কেরোসিন স্টোভের দিকেই ফিরছেন।
সীমাবদ্ধতা ও সংকট
রেশন ডিলাররা জানিয়েছেন, হঠাত চাহিদা বাড়লেও অতিরিক্ত তেলের জোগান দেওয়া তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয়। কারণ, রাজ্য সরকারের নির্ধারিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত কেরোসিন বরাদ্দ থাকে না। ফলে আগামী দিনে গ্যাসের সংকট না কাটলে জ্বালানি সমস্যা আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।




















