গুজরাট: ভারতের তেল আমদানির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সম্পন্ন হল। (Jag Ladki)গুজরাটের মুন্দ্রায় অবস্থিত আদানি পোর্টসে ভারতীয় পতাকাবাহী ক্রুড অয়েল ট্যাঙ্কার ‘জগ লাডকি’ নিরাপদে পৌঁছেছে। জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ফুজাইরাহ পোর্ট থেকে লোড করা প্রায় ৮০,৮৮৬ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল নিয়ে এসেছে। এই কার্গো মূলত মুরবান গ্রেডের ক্রুড, যা ইউএই-এর অন্যতম প্রধান তেল। বুধবার সকালে জাহাজটি মুন্দ্রা পোর্টের সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং-এ বার্থ করে, এবং আনলোডিং প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এই যাত্রা শুধু একটি সাধারণ তেলের চালান নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ ও উত্তেজনার মধ্যে একটি সাহসী অভিযান। ১৪ মার্চ, ২০২৬-এ যখন জগ লাডকি ফুজাইরাহের সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং-এ ক্রুড লোড করছিল, তখনই পোর্টের তেল টার্মিনালে ড্রোন আক্রমণ হয়। এই আক্রমণে আগুন লেগে যায়, কিছু লোডিং অপারেশন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু জাহাজটি ও তার ২২ জন ভারতীয় নাবিক অক্ষত ছিলেন। আক্রমণের পরের দিন, ১৫ মার্চ সকাল ১০:৩০ টায় জাহাজটি নিরাপদে ফুজাইরাহ ছেড়ে যায়।
আরও দেখুনঃ দশম শ্রেণী উত্তীর্ণ প্রার্থীদের জন্য ১১,১২৭টি শূন্যপদ প্রকাশ ভারতীয় রেলের
ভারত সরকার জানিয়েছে, এটি যুদ্ধক্ষেত্র থেকে নিরাপদে বেরিয়ে আসা চতুর্থ ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ। গালফ অফ ওমান পর্যন্ত ভারতীয় নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজ এটিকে এসকর্ট করেছে, যাতে স্ট্রেইট অব হরমুজের ঝুঁকিপূর্ণ পথ অতিক্রম করতে কোনো বিপদ না হয়।ভারত প্রতিদিন প্রায় ৫ মিলিয়ন ব্যারেলের বেশি ক্রুড অয়েল আমদানি করে, যার বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়া তেলের প্রবাহ ব্যাহত হলে দেশের রিফাইনারি, পেট্রোল-ডিজেল সরবরাহ এবং অর্থনীতিতে চাপ পড়ে।
ফুজাইরাহ পোর্ট হরমুজের বাইরে অবস্থিত হওয়ায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প রুট। জগ লাডকির এই নিরাপদ আগমন ভারতের এনার্জি সিকিউরিটির জন্য বড় স্বস্তি। এই কার্গো রিফাইনারিগুলোতে প্রক্রিয়াকরণের পর পেট্রোল, ডিজেল, এলপিজি সহ অন্যান্য জ্বালানি উৎপাদনে সাহায্য করবে। সাম্প্রতিক সময়ে এলপিজি সরবরাহে কিছু ঘাটতি দেখা যাচ্ছে, তাই এই চালান অত্যন্ত সময়োপযোগী।মুন্দ্রা পোর্ট ভারতের সবচেয়ে বড় প্রাইভেট পোর্ট।
আদানি পোর্টস অ্যান্ড স্পেশাল ইকোনমিক জোন লিমিটেড (এপিএসইজেডএল) এখানে বছরে লক্ষ লক্ষ টন ক্রুড হ্যান্ডেল করে। জাহাজটির দৈর্ঘ্য ২৭৪.১৯ মিটার, বিম ৫০.০৪ মিটার, ডেডওয়েট টনেজ প্রায় ১,৬৪,৭১৬ টন এবং গ্রস টনেজ প্রায় ৮৪,৭৩৫ টন। এই ধরনের বড় জাহাজ নিরাপদে হ্যান্ডেল করার ক্ষমতা মুন্দ্রার পরিকাঠামোর শক্তির প্রমাণ। আদানি পোর্টসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই আগমন দেশের জ্বালানি আমদানিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।




















