সোহিনী পোড়েল, কলকাতা: যুদ্ধের দাবানলে জ্বলছে ইরান, ইজরায়েল, আমেরিকা। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে কালো আঁধার নেমেছে। বারুদের গন্ধ চারিদিকে। ইরানে মৃতের সংখ্যা ৫৫০-র বেশি। ঠিক এমন সময় এশিয়ান কাপে (Asian Cup) খেলতে নেমেছে ইরানের মহিলা ফুটবলাররা। দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে খেলতে নেমেছিল তাঁরা। ৩-০ ব্যবধানে হেরে গিয়েছে ইরান। কিন্তু এই ম্যাচ শুরুর আগের এক মুহূর্ত নিয়ে বিশ্বজুড়ে চর্চা শুরু হয়েছে। জাতীয় সঙ্গীত ‘বয়কট’ করেছেন ইরানের মহিলা ফুটবলাররা। গ্যালারিতে জ্বলজ্বল করছে ইরানের পুরনো পতাকা।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের আমলে শিকে উঠেছিল মেয়েদের স্বাধীনতা। বছর কয়েক আগে হিজাব বিরোধী আন্দোলনে নেমে খুন হতে হয়েছিল প্রতিবাদী মহিলাদের। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে খামেনেই সরকারের পতনের দাবি জানিয়ে প্রতিবাদে নামে ইরানের হাজার হাজার মানুষ। এমনকি প্রকাশ্যে খামেনেইয়ের ছবিতে সিগারেট দিয়ে আগুন ধরাতে দেখা গিয়েছে ইরানের এক মহিলাকে। খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর আনন্দ করতে দেখা গিয়েছে বহু ইরানি মহিলাকে।
এই আবহে অস্ট্রেলিয়ার গোল্ড কোস্টে এশিয়ান কাপে অংশগ্রহণ করেছেন ইরানের মহিলা ফুটবলাররা। প্রথম ম্যাচে ইরানের সামনে ছিল দক্ষিণ কোরিয়ার মতো কঠিন প্রতিপক্ষ। ম্যাচ শুরুর আগে জাতীয় সঙ্গীতের সময় নীরব ছিলেন ইরানের মহিলা ফুটবলাররা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, জাতীয় সঙ্গীতের সময় ইরানের মহিলা ফুটবলারদের মুখ পুরো নির্বিকার। সাইডলাইনে দাঁড়িয়ে শুরু মুচকি হাসলেন ইরানের কোচ মারজিয়েহ জাফারি।
১৯৯০ সালে খামেনেইয়ের আমলে জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে যা গ্রহণ করা হয়েছিল ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরানে। বলে রাখা ভালো, দেশ ছাড়ার আগে আদেশ দেওয়া হয়েছিল জাতীয় সঙ্গীত গাইতেই হবে তাঁদের। সেখানে জাতীয় সঙ্গীত না গেয়ে এক তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ নিলেন তাঁরা। এমনকি ম্যাচ চলাকালীন স্টেডিয়ামে ‘সিংহ-সূর্যের’ ৪৭ বছর পুরনো পতাকা দেখা গিয়েছে।




















