নয়াদিল্লি: বুধবার ভারতীয় মুদ্রার মূল্যে ব্যাপক পতন দেখা গেল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েল এবং ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির জেরে মার্কিন ডলারের নিরিখে সর্বকালের সর্বনিম্ন স্তরে নামল টাকা।
দুপুর ১২:৩৯ মিনিটের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এক ডলারের নিরিখে টাকার দাম পৌঁছয় ৯২.২৪ টাকায়। এই প্রথমবার টাকার দাম ৯২-এর গণ্ডি পার করল। বিশ্বজুড়ে এই সংঘাতের আবহে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকছেন, যার প্রভাব সরাসরি পড়ছে ভারতের মুদ্রাবাজারে। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি এবং ডলারের শক্তিশালী অবস্থানই উদীয়মান বাজারের মুদ্রাগুলির ওপর এই প্রবল চাপের মূল কারণ।
কেন পড়ছে টাকার দাম?
টাকার এই রেকর্ড পতনের অন্যতম প্রধান কারণ হল অপরিশোধিত তেলের দামের ব্যাপক বৃদ্ধি। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার কারণে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই অঞ্চলটি জ্বালানি রফতানির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হওয়ায় যে কোনও সংঘাত সরাসরি তেলের দাম বাড়িয়ে দেয়।
ভারতের জন্য এটি অত্যন্ত চিন্তার বিষয়। কারণ, ভারত তার প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৮৫ শতাংশই আমদানি করে। তেলের দাম বাড়লে দেশের আমদানি খরচ বা ইমপোর্ট বিল অনেকটাই বেড়ে যায়।
তেল মহার্ঘ হলে ভারতকে জ্বালানি কিনতে আরও বেশি ডলার খরচ করতে হয়। এর ফলে মার্কিন ডলারের চাহিদা বাড়ে এবং টাকার ওপর চাপ সৃষ্টি হয়। এছাড়া, তেলের দাম বাড়লে মুদ্রাস্ফীতি বাড়তে পারে এবং কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ঘাটতি (Current Account Deficit) চওড়া হতে পারে, যা দেশীয় মুদ্রাকে আরও দুর্বল করে দেয়।
বিশ্ববাজারে শক্তিশালী মার্কিন ডলার Indian Rupee Record Low
টাকার দুর্বল হওয়ার আরও একটি বড় কারণ হলো বিশ্বজুড়ে মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান। যেকোনো অনিশ্চয়তা বা যুদ্ধ পরিস্থিতির সময়ে বিনিয়োগকারীরা সাধারণত মার্কিন ডলার এবং মার্কিন সরকারি বন্ডের মতো অপেক্ষাকৃত নিরাপদ সম্পদে বিনিয়োগ করতে পছন্দ করেন।
বিশ্বব্যাপী মূলধনের এই স্থানান্তরের ফলে ভারত-সহ অন্যান্য উদীয়মান বাজার থেকে অর্থ বেরিয়ে গিয়ে আমেরিকায় ঢুকছে, যা টাকার মানের ওপর প্রবল চাপ তৈরি করছে।
বিশ্বজুড়ে আর্থিক বাজারে অস্থিরতা
টাকার এই পতন বিশ্বব্যাপী আর্থিক বাজারের ব্যাপক অস্থিরতারই একটি অংশ। ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ায়, ওয়াল স্ট্রিট (Wall Street) পতনের সঙ্গে বন্ধ হওয়ার পর এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলিও নিচের দিকে ট্রেড করছে। মুদ্রাবাজারগুলি সাধারণত বিশ্বব্যাপী ধাক্কায় দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখায়, বিশেষত যখন সেই ধাক্কা জ্বালানি সরবরাহ বা বড় ধরনের সংঘাতের সঙ্গে যুক্ত থাকে।
বিনিয়োগকারীদের এখন কী করণীয়?
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, বিনিয়োগকারীদের এখন প্রধানত দুটি বিষয়ের ওপর কড়া নজর রাখতে হবে৷ প্রথমত, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির গতিপ্রকৃতি। দ্বিতীয়ত, অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামা।
যদি এই সংঘাত আগামী দিনে আরও তীব্র হয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি অব্যাহত থাকে, তবে স্বল্পমেয়াদে টাকার ওপর এই নিম্নমুখী চাপ বজায় থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।




















