নয়াদিল্লি, ২১ মার্চ: ভারতীয় নৌবাহিনী (Indian Navy) ক্রমাগত তার শক্তি ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে। শীঘ্রই এটি তার নৌবহরে অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন আরও একটি জাহাজ যুক্ত করবে। দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত স্টেলথ ফ্রিগেট আইএনএস তারাগিরি (INS Taragiri, এফ৪১) আগামী ৩ এপ্রিল ভারতীয় নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হবে। এই বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং।
আইএনএস তারাগিরি হলো প্রজেক্ট ১৭এ-এর অধীনে নির্মিত চতুর্থ যুদ্ধজাহাজ। প্রায় ৬,৬৭০ টন ওজনের এই জাহাজটি ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের একটি শক্তিশালী উদাহরণ। এটি মুম্বইয়ের মাজাগন ডক শিপবিল্ডার্স লিমিটেড দ্বারা নির্মিত হয়েছিল।
যুদ্ধজাহাজটি আধুনিক স্টিলথ প্রযুক্তিতে সজ্জিত
এই যুদ্ধজাহাজটি আধুনিক স্টিলথ প্রযুক্তিতে সজ্জিত, যা এর রাডার শনাক্তকরণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করে এবং শত্রুর পক্ষে এটিকে শনাক্ত করা কঠিন করে তোলে। এই বিশেষ জাহাজটি নির্মাণে ৭৫ শতাংশেরও বেশি দেশীয় সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছে, যেখানে দেশের ২০০টিরও বেশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের অবদান রয়েছে।
আইএনএস তারাগিরি সুপারসনিক মিসাইল, মাঝারি পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ডুবোজাহাজ-বিরোধী যুদ্ধ সক্ষমতাসহ অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবস্থায়ও সজ্জিত। এটি একটি আধুনিক যুদ্ধ ব্যবস্থাপনা সিস্টেম দ্বারাও সজ্জিত, যা দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে। এই যুদ্ধজাহাজটি শুধু যুদ্ধেই নয়, মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ ত্রাণ (HADR)-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ মিশনেও তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালনে সক্ষম হবে।
আত্মনির্ভর ভারতের পথে এক বড় পদক্ষেপ
ভারতীয় নৌবাহিনীর এই নতুন জাহাজটিকে দেশের বাড়তে থাকা সামুদ্রিক শক্তি এবং আত্মনির্ভর ভারতের পথে আরও একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
নীলগিরি শ্রেণীর (প্রজেক্ট ১৭এ) চতুর্থ জাহাজ এবং মাজাগন ডক শিপবিল্ডিং লিমিটেড (এমডিএল) দ্বারা নির্মিত তৃতীয় জাহাজ তারাগিরি গত বছর ২৮ নভেম্বর মুম্বইয়ের এমডিএল থেকে ভারতীয় নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। তারাগিরি হলো পূর্ববর্তী লিয়েন্ডার-শ্রেণির ফ্রিগেট আইএনএস তারাগিরির একটি নতুন নকশা, এবং এটি ১৬ মে ১৯৮০ থেকে ২৭ জুন ২০১৩ পর্যন্ত, মোট ৩৩ বছর ধরে ভারতীয় নৌবহরে পরিষেবা দিয়েছে।




















