নয়াদিল্লি, ৭ মার্চ: ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে একটি বড় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ভারতীয় নৌবাহিনীর সাবমেরিন আইএনএস খান্দেরিতে (INS Khanderi) ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে একটি দেশীয় এয়ার-ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রোপালশন (AIP) সিস্টেম লাগানো হবে। এই প্রযুক্তি স্থাপনের পর, সাবমেরিনের শক্তি এবং গোপনে পরিচালনার ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
প্রতিরক্ষা সূত্রের মতে, এই সিস্টেমটি প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও) দ্বারা তৈরি করা হয়েছে। সিস্টেমটির প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং এর শক্তি মডিউলটি আগামী ৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যে মুম্বইয়ের মাজাগন ডক শিপবিল্ডার্স লিমিটেডের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
আইএনএস খান্দেরি মেরামতের জন্য ডক করার সময় এই মডিউলটি সাবমেরিনের ভিতরে স্থাপন করা হবে। সূত্রগুলি ইঙ্গিত দেয় যে ২০২৭ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে সমুদ্রে পরীক্ষা শুরু হতে পারে, এবং সম্পূর্ণ মেরামত ২০২৮ সালের প্রথম দিকে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
AIP প্রযুক্তি কী?
AIP প্রযুক্তির সাহায্যে, ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিনগুলি পৃষ্ঠের উপর না পড়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে জলের নিচে থাকতে পারে। বর্তমানে, সাধারণ সাবমেরিনগুলিকে তাদের ব্যাটারি চার্জ করার জন্য প্রতি ৪৫ দিন অন্তর ভূপৃষ্ঠে আসতে হয়, যা শত্রু রাডার দ্বারা সনাক্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।
এই প্রযুক্তি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
এআইপি সিস্টেম ইনস্টল করার ফলে, সাবমেরিনগুলি দীর্ঘ সময় ধরে জলের নিচে থাকতে এবং তাদের মিশন সম্পন্ন করতে সক্ষম হবে, যার ফলে শত্রুদের পক্ষে তাদের ট্র্যাক করা আরও কঠিন হয়ে পড়বে। এই প্রযুক্তি পরিবেশগতভাবেও নিরাপদ, কারণ এর একমাত্র উপজাত হল পরিষ্কার জল।
কালভারি-শ্রেণীর সাবমেরিন
কালভারি-শ্রেণীর সাবমেরিনটি মুম্বইতে ফরাসি কোম্পানি নেভাল গ্রুপের সহযোগিতায় নির্মিত হয়েছিল। এই প্রকল্পের আওতায় ছয়টি সাবমেরিন ইতিমধ্যেই ভারতীয় নৌবাহিনীতে কমিশন করা হয়েছে। বর্তমানে, ভারতীয় নৌবাহিনীর কাছে প্রায় ১৬টি প্রচলিত সাবমেরিন রয়েছে, যার মধ্যে অনেকগুলি ৩০ বছরেরও বেশি পুরনো। নতুন প্রযুক্তি এবং আপগ্রেড নৌবাহিনীর সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করবে।




















