‘গরু খায় যারা, তারা কি শূকরের দুধ খায়?’ গোরক্ষপুরে যোগী বচনে বিতর্ক

yogi-adityanath-cow-remark-gorakhpur-controversy

গোরক্ষপুর: গোরক্ষপুরে ‘নারী শক্তি বন্দন’ অনুষ্ঠানে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath)গো-সুরক্ষা নিয়ে তীব্র ও সরাসরি বক্তব্য রেখে দেশজুড়ে আলোচনার ঝড় তুলেছেন। তিনি বলেন, “প্রত্যেক দেশের মানুষ গরুর দুধ খায়, গরুকে পূজা করুক বা না করুক। যারা গরু খায়, তারা কি শূকরের দুধ খায়?” এই মন্তব্যেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মন্তব্য করেছেন যোগী গো-মাংস ভক্ষণকারীদের ‘দ্বিচারিতা’র দিকে ইঙ্গিত করেছেন।

   

অনুষ্ঠানে যোগী আদিত্যনাথ বলেন, গরুর দুধ প্রকৃতির এক অমূল্য উপহার। শিশুর মায়ের দুধের মতোই এটি পুষ্টিকর ও প্রাকৃতিক। পৃথিবীর যেকোনো দেশে, যেকোনো ধর্মের মানুষ গরুর দুধই পান করে। গরুকে ধর্মীয়ভাবে সম্মান করা না করা আলাদা বিষয়, কিন্তু দুধের ক্ষেত্রে সবাই গরুর দুধের ওপরই নির্ভরশীল। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “গরু খায় যারা, তারা কি শূকরের দুধ খায়? নাকি গরুর দুধই খায়?”

আরও দেখুনঃ পুরনো রুশ ‘গ্র্যাড’-কে প্রতিস্থাপন করে ‘পিনাকা’ রকেট আর্টিলারির শক্তিতে পরিণত হবে

এই বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে সভাস্থলে উপস্থিত জনতা করতালি দিয়ে সাড়া দেন।যোগী আদিত্যনাথ আরও জোর দিয়ে বলেন, গরু মাতৃতুল্য। তার দুধ, গোবর, গোমূত্র সবই মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়। তিনি উত্তরপ্রদেশে গো-হত্যা বন্ধে তাঁর সরকারের কঠোর আইনের কথা উল্লেখ করেন। ২০১৭ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। ২০২০ সালে আইন আরও কঠোর করা হয়েছে।

গো-হত্যায় সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং লক্ষাধিক টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। তিনি বলেন, “উত্তরপ্রদেশে গো-সুরক্ষা শুধু আইন নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতি ও সভ্যতার অংশ।”এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিজেপি নেতারা মুখ্যমন্ত্রী যোগীর বক্তব্যকে সাহসী ও সত্যভাষণ বলে সমর্থন করেছেন। তাঁরা বলছেন, গো-মাংস খাওয়ার পক্ষে যাঁরা সওয়াল করেন, তাঁরা নিজেরাই গরুর দুধ খান এটা দ্বিচারিতা।

অন্যদিকে বিরোধী দলগুলো এই মন্তব্যকে ‘বিভেদমূলক’ ও ‘সাম্প্রদায়িক’ বলে সমালোচনা করেছে। কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টির নেতারা বলছেন, যোগী আদিত্যনাথ ধর্মীয় বিষয়কে রাজনীতিতে ব্যবহার করে সাম্প্রদায়িক বিভেদ বাড়াচ্ছেন।সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ভিডিও ভাইরাল হয়ে গেছে। অনেকে লিখছেন, “যোগীজি সত্যি কথা বলেছেন। গরুর দুধ সবাই খায়, কিন্তু গরুকে রক্ষা করতে চায় না এটা অসঙ্গতি।” আবার কেউ কেউ বলছেন, “এই ধরনের মন্তব্য সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করে। খাদ্যাভ্যাস ব্যক্তিগত বিষয়।”