পুরনো রুশ ‘গ্র্যাড’-কে প্রতিস্থাপন করে ‘পিনাকা’ রকেট আর্টিলারির শক্তিতে পরিণত হবে

ভারতীয় সেনাবাহিনী তার যুদ্ধ সক্ষমতা আধুনিকীকরণের দিকে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিতে চলেছে। তারা এখন পুরনো রুশ-নির্মিত বিএম-২১গ্র্যাড রকেট লঞ্চারগুলোকে সম্পূর্ণরূপে পর্যায়ক্রমে বাদ দিয়ে সেগুলোর পরিবর্তে দেশীয় পিনাকা মাল্টি-ব্যারেল ...

By Kolkata24x7 Team

Published:

Follow Us

ভারতীয় সেনাবাহিনী তার যুদ্ধ সক্ষমতা আধুনিকীকরণের দিকে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিতে চলেছে। তারা এখন পুরনো রুশ-নির্মিত বিএম-২১গ্র্যাড রকেট লঞ্চারগুলোকে সম্পূর্ণরূপে পর্যায়ক্রমে বাদ দিয়ে সেগুলোর পরিবর্তে দেশীয় পিনাকা মাল্টি-ব্যারেল রকেট লঞ্চার (এমবিআরএল) ব্যবস্থা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই পরিবর্তনের লক্ষ্য শুধু আত্মনির্ভর ভারত গড়ার লক্ষ্যেই নয়, বরং যুদ্ধক্ষেত্রে নির্ভুল আঘাত হানার সক্ষমতা নিশ্চিত করাও। Pinaka

২০২৬ সালের মধ্যে সেনা বহরে যুক্ত হবে ১০টি নতুন পিনাকা রেজিমেন্ট

   

সামরিক সূত্র অনুযায়ী, ভারতীয় সেনাবাহিনী মোট ২২টি পিনাকা রেজিমেন্ট গঠনের পরিকল্পনা করছে। সেনাবাহিনী এই লক্ষ্যের দিকে দ্রুত এগিয়ে চলেছে এবং ২০২৬ সালের মাঝামাঝি নাগাদ ১০টি পিনাকা রেজিমেন্টকে সম্পূর্ণরূপে কার্যকর করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এই সম্প্রসারণ পিনাকাকে ভারতের নতুন ইন্টিগ্রেটেড রকেট ফোর্সের মেরুদণ্ডে পরিণত করবে।

১২২ মিমি দেশীয় রকেট প্রকল্পটি কেন পিছিয়ে পড়ল?
মজার ব্যাপার হলো, ডিআরডিও-র গবেষণাগার এআরডিই এবং এইচইএমআরএল-ও গ্র্যাড সিস্টেমের বিকল্প হিসেবে একটি নতুন ১২২ মিমি দেশীয় রকেট তৈরি করেছে, যেটি ২০২১ সালে সফলভাবে তার পরীক্ষা সম্পন্ন করে। এই রকেটটির পাল্লা (৪০ কিমি) ছিল পুরনো গ্র্যাডের দ্বিগুণ।

তবে, সেনাবাহিনী এটি স্থগিত করেছে। এর প্রধান কারণ হলো পিনাকা এমকে-১ এর প্রচণ্ড প্রাণঘাতী ক্ষমতা এবং উন্নত প্রযুক্তি। পিনাকার ২১৪ মিমি রকেট শুধু ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটাতেই সক্ষম নয়, বরং এর গাইডেড সংস্করণটি ৭৫ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতেও নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে পারে।

বর্তমান যুদ্ধ থেকে শিক্ষা
সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলো প্রমাণ করেছে যে ‘এরিয়া স্যাচুরেশন’ (বিশাল এলাকা জুড়ে নির্বিচারে রকেট ছোড়া)-এর যুগ শেষ হয়ে গেছে। আজকের যুগে শত্রুপক্ষের হাতে উন্নত রাডার এবং ড্রোন রয়েছে। তাই, ভারতীয় সেনাবাহিনী এখন আমেরিকান হিমার্স (HIMARS)-এর আদলে নিজস্ব একটি আক্রমণ কৌশল তৈরি করতে চায়, যা নির্ভুলভাবে পরিচালিত রকেট ব্যবহার করে এক আঘাতেই শত্রুর কমান্ড সেন্টার এবং রসদ ডিপো ধ্বংস করতে সক্ষম।

রসদ সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জগুলোও একটি কারণ
আরেকটি প্রধান কারণ হলো সেনাবাহিনীর সরবরাহ শৃঙ্খলকে সরল করা। বর্তমানে, সেনাবাহিনীকে ১২২ মিমি এবং ২১৪ মিমি উভয় ধরনের গোলাবারুদই পরিচালনা করতে হয়। পিনাকাতে সম্পূর্ণ স্থানান্তর সেনাবাহিনীকে বিভিন্ন ক্যালিবারের রকেট সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের ঝামেলা থেকে মুক্ত করবে।

পিনাকার বৈশিষ্ট্য:
গতি: মাত্র ৪৪ সেকেন্ডে ১২টি রকেট নিক্ষেপ করতে সক্ষম। নির্ভুলতা: জিপিএস এবং ন্যাভিক প্রযুক্তি দ্বারা চালিত গাইডেড সিস্টেম। পাল্লা: ৭৫ কিলোমিটার পর্যন্ত নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। দেশীয় প্রযুক্তি: সম্পূর্ণরূপে ভারতেই তৈরি, যা বিদেশি নির্ভরতা দূর করে।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Kolkata24x7 Team

আমাদের প্রতিবেদন গুলি kolkata24x7 Team এর দ্বারা যাচাই করে লেখা হয়। আমরা একটি স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম যা পাঠকদের জন্য স্পষ্ট এবং সঠিক খবর পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য এবং সাংবাদিকতার মান সম্পর্কে জানতে, অনুগ্রহ করে আমাদের About us এবং Editorial Policy পৃষ্ঠাগুলি পড়ুন।

Follow on Google