
গ্যাংটক: সিকিমের রাজধানী গ্যাংটক আজ সত্যিই এক অনন্য দৃশ্যের সাক্ষী হয়ে উঠেছে। (Women’s Reservation Bill)সকাল থেকেই শহরের রাস্তায় রাস্তায় ভিড় জমতে শুরু করেছিল। দেওরালির তাটা স্ট্যান্ড থেকে শুরু হয়ে পালজোর স্টেডিয়াম পর্যন্ত বিস্তৃত পথে হাজার হাজার নারী একসঙ্গে হেঁটে চলেছেন। তাদের হাতে জাতীয় পতাকা, মুখে স্লোগান ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম জিন্দাবাদ’, ‘মহিলাদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ চাই’। গতকাল সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট না পাওয়ার কারণে এই সংরক্ষণ বিল পাশ হয়নি। তার প্রতিবাদেই প্রমীলাদের এই মিছিল।
আয়োজকদের অনুমান, ছয়টি জেলা থেকে আসা প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি, কেউ কেউ বলছেন ২৫ হাজার পর্যন্ত নারী এই মিছিলে অংশ নিয়েছেন। এটি শুধু একটি মিছিল নয়, এ যেন সিকিমের নারী সমাজের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ।নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম, যা নারীদের জন্য সংসদ ও বিধানসভায় এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণের বিধান করে, তার প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন জানাতেই এই বিশাল সমাবেশ।
আরও দেখুনঃ অভিষেককে রাহুলের ফোন! দিল্লির ‘দোস্তি’ নিয়ে বাংলায় ‘কুস্তি’র খোঁচা বিজেপি-র
মিছিলে শুধু সাধারণ গৃহিণী বা গ্রামের মেয়েরাই নয়, সরকারি কর্মচারী, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্য, ছাত্রী, রাজনৈতিক কর্মী সবাই একসঙ্গে হাঁটছিলেন। বর্ণাঢ্য পোশাকে, হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে তারা চলেছেন। অনেকের চোখে ছিল আশার আলো, কণ্ঠে ছিল দৃঢ় প্রত্যয়। একজন অংশগ্রহণকারী মহিলা বললেন, “এতদিন আমরা শুনেছি কথা, এবার সময় এসেছে কাজ দেখার।
আমাদের মেয়েরা যাতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় সমান অংশীদার হয়, সেই লক্ষ্যেই এই সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি।”মিছিলে উপস্থিত ছিলেন সিকিম বিধানসভার একাধিক মহিলা বিধায়ক এবং পুরুষ সদস্যরাও। তারা সকলেই এই বিলকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এটি শুধু নারীদের ক্ষমতায়ন নয়, গোটা সমাজের উন্নয়নের পথ প্রশস্ত করবে। সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাংও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেছেন, এই আইন ভারতের গণতন্ত্রকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলবে।
মিছিলের আয়োজকরা জানিয়েছেন, এটি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং নারীদের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের একটি প্রয়াস।সিকিমের এই উষ্ণ সমর্থনের পিছনে রয়েছে নারীদের দৈনন্দিন জীবনের বাস্তবতা। এখানকার অনেক পরিবারে মহিলারাই সংসারের মূল স্তম্ভ। তারা চা বাগানে কাজ করেন, স্বনির্ভর গোষ্ঠী চালান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে অবদান রাখেন।
কিন্তু রাজনৈতিক ক্ষেত্রে তাদের প্রতিনিধিত্ব এখনও খুবই কম। সংসদ ও বিধানসভায় মাত্র ১০ শতাংশেরও কম আসনে নারীরা রয়েছেন। এই সংরক্ষণ আইন কার্যকর হলে সেই চিত্র বদলে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার মহিলারা, যারা স্থানীয় সমস্যা যেমন পানীয় জল, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এসব নিয়ে সরাসরি জড়িত, তাদের কণ্ঠস্বর আরও জোরালো হবে।

