১৯৭১-সহ তিন যুদ্ধের সেনা নিজের জমি ফেরাতে ‘চতুর্থ যুদ্ধে’র লড়াইয়ে

১৯৬২, ১৯৬৫ ও ১৯৭১-এর যুদ্ধে অংশ নেওয়া ৯২ বছরের প্রাক্তন সেনা আধিকারিক অভিযোগ করেছেন, জাল নথি ব্যবহার করে তাঁর ২৫ বিঘা জমি হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।

veteran-army-captain-land-fraud-jaisalmer-chunni-lal-thakur

জয়সলমেঢ়: দেশের জন্য ১৯৬২ সালে চিনের বিরুদ্ধে এবং ১৯৬৫ ও ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লড়েছিলেন তিনি (Indian Army)। এবার ৯২ বছর বয়সে তাঁকে লড়তে হচ্ছে আরেকটি যুদ্ধ। তবে এবার প্রতিপক্ষ কোনও বিদেশি সেনাবাহিনী নয়, বরং নিজের কৃষিজমি ফিরে পাওয়ার লড়াই। রাজস্থানের জয়সলমেরে জমি জালিয়াতির অভিযোগ তুলে ন্যায়বিচারের দাবিতে সরব হয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত ভারতীয় সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন চুন্নি লাল ঠাকুর।

প্রাক্তন সেনা আধিকারিকের অভিযোগ, তাঁর অজান্তেই জাল নথি ব্যবহার করে ২৫ বিঘা কৃষিজমি অন্য এক ব্যক্তির নামে রেজিস্ট্রি ও মিউটেশন করে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

কী অভিযোগ করেছেন প্রাক্তন সেনা আধিকারিক?
হিমাচল প্রদেশের কাংড়া জেলার বাসিন্দা চুন্নি লাল ঠাকুর জানান, জয়সলমের জেলার মোহনগড় এলাকার ইন্দিরা গান্ধী ক্যানাল কমান্ড অঞ্চলে তাঁর কৃষিজমি ছিল। অভিযোগ, ১৬ জুন জাল নথির ভিত্তিতে সেই জমি অন্য এক ব্যক্তির নামে রেজিস্ট্রি করা হয় এবং ২৬ জুন মিউটেশনও সম্পন্ন হয়।
তাঁর দাবি, পুরো প্রক্রিয়ার সময় তিনি উপস্থিতই ছিলেন না। অথচ নথিতে তাঁর পরিচয় ব্যবহার করে জমির মালিকানা বদলে দেওয়া হয়েছে।

পুনর্বাসন প্রকল্পে পেয়েছিলেন জমি
চুন্নি লাল ঠাকুর পং ড্যাম নির্মাণের কারণে উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলির একজন। কাংড়ায় তাঁদের পূর্বপুরুষের জমি অধিগ্রহণের পর পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় রাজস্থানের জয়সলমেরে এই কৃষিজমি বরাদ্দ করা হয়েছিল। তিনি স্থানীয় কৃষকদের মাধ্যমে জমিতে চাষ করাতেন এবং নিয়মিত উৎপাদনের অংশও পেতেন। সম্প্রতি জমিতে চাষ করা ব্যক্তি তাঁকে জানান, জমিটি ইতিমধ্যেই অন্য কারও কাছে বিক্রি হয়ে গেছে। এরপরই বিষয়টি সামনে আসে।

পুলিশের দ্বারস্থ পরিবার
ঘটনা জানার পর চুন্নি লাল ঠাকুর হিমাচল প্রদেশ থেকে জয়সলমেরে এসে রাজস্ব দফতর এবং স্থানীয় থানায় অভিযোগ জানান।
তাঁর অভিযোগ, একাধিকবার আবেদন করলেও প্রথমে পুলিশ এফআইআর নেয়নি।
পরবর্তীতে তিনি জয়সলমেরের পুলিশ সুপার অভিষেক শিবহরে-র সঙ্গে দেখা করেন। তাঁর নির্দেশের পর সিটি কোটওয়ালি থানায় প্রতারণার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়।

জাল আধার নথি ব্যবহারের অভিযোগ
প্রাক্তন সেনা আধিকারিকের দাবি, অভিযুক্তরা জাল পরিচয়পত্র এবং আধার-সংক্রান্ত নথি তৈরি করে তাঁর পরিচয় ব্যবহার করেছে।
তাঁর ছেলে মুলতান সিং ঠাকুর প্রশ্ন তুলেছেন, আসল জমির মালিকের আঙুলের ছাপ, ছবি কিংবা শারীরিক উপস্থিতি যাচাই না করেই কীভাবে রেজিস্ট্রির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হল? তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি নিয়ে পরিবারকে এক থানা থেকে অন্য থানায় ঘুরতে হয়েছে।

অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে?
এয়ার ফোর্সের অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট লালারাম, যিনি সৈনিক বিশ্রামাগারের দায়িত্বে রয়েছেন, অভিযোগ করেছেন যে পং ড্যাম প্রকল্পে উচ্ছেদ হওয়া পরিবার এবং হিমাচল প্রদেশের অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মীদের লক্ষ্য করে একটি চক্র কাজ করছে।
তাঁর দাবি, দূরে বসবাস করার সুযোগ নিয়ে জাল নথির মাধ্যমে তাঁদের জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে।

তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ
জয়সলমেরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেওয়ন্তদান জানিয়েছেন, প্রতারণা-সংক্রান্ত একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে।

তদন্তে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে। পাশাপাশি জমি রেজিস্ট্রির সময় পরিচয় যাচাই প্রক্রিয়ায় কোনও গাফিলতি হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই ঘটনা সামনে আসার পর প্রাক্তন সেনাকর্মী এবং পুনর্বাসিত পরিবারগুলির জমির নিরাপত্তা ও সম্পত্তির অধিকার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলির সত্যতা বিচারাধীন থাকবে।