ফিফা (FIFA ) সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে এবার রীতিমতো এককাট্টা হয়ে জোট বাঁধল গোটা ইউরোপ। ফুটবল মাঠে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো এবং আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর সন্দেহজনক আঁতাতের অভিযোগে এখন উত্তাল বিশ্ব ফুটবলের অন্দরমহল। সবুজ গালিচায় ফুটবলের নিয়মের চেয়েও কি এখন হোয়াইট হাউসের ক্ষমতা বেশি? এই গুরুতর প্রশ্ন তুলেই ফিফা সভাপতির বিরুদ্ধে একটি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে সরব হয়েছেন ইউরোপের আইনপ্রণেতারা।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিশ্বকাপের মঞ্চে আমেরিকার ফোলারিন বালোগুন এবং ইংল্যান্ডের জ্যারেল কোয়ানসার লাল কার্ড দেখার ঘটনা। দু’জনেই মাঠে প্রায় একই রকম ফাউল করেছিলেন। কিন্তু শাস্তির ক্ষেত্রে দেখা গেল চূড়ান্ত বৈষম্য। নিয়ম অনুযায়ী বালোগুন দু’ম্যাচের জন্য নির্বাসিত হয়েছিলেন। কিন্তু এরপরই আসরে নামেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ইনফান্তিনোকে ট্রাম্পের একটি ফোনের পরেই জাদুকরী ভাবে বালোগুনের শাস্তি এক বছরের জন্য পিছিয়ে দেওয়া হয়! ফলে চলতি বিশ্বকাপে তাঁর মাঠে নামতে আর কোনও বাধাই রইল না।
Also Read | FIFA World Cup: পেনাল্টি মিসের পর খুনের হুমকি, এস্কোবার স্মৃতি ফিরল কলম্বিয়ার ফুটবলে
অন্যদিকে, ঠিক একই অপরাধ করে ইংল্যান্ডের কোয়ানসাকে দু’ম্যাচের নির্বাসনই মেনে নিতে হয়েছে। ফিফার শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি কোয়ানসার ক্ষেত্রে এতটাই কঠোর ছিল যে, ইংল্যান্ডের ফুটবল ফেডারেশনকে আপিল করার ন্যূনতম সুযোগটুকুও দেওয়া হয়নি। ইনফান্তিনো অবশ্য সাফাই দিয়ে দাবি করেছেন, ট্রাম্প তাঁকে ফোন করলেও বালোগুনের শাস্তি পিছনোর সিদ্ধান্তে তার কোনও প্রভাব পড়েনি। কিন্তু একই অপরাধে দুই দেশের ফুটবলারের জন্য ফিফার এই ‘দ্বিমুখী নীতি’ এবং নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না ইউরোপীয় ফুটবল মহল।
Also Read | ছাংতেকে নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল মুম্বাই
এই বৈষম্যের বিরুদ্ধেই এবার একজোট হয়ে আইনি লড়াইয়ের পথে নামছে ইউরোপের দেশগুলি। ইউরোপীয় সংসদের ৭২ জন সদস্য ইতিমধ্যেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য দেশের ফুটবল সংস্থার সভাপতিদের কড়া চিঠি দিয়েছেন। আলাদা করে চিঠি দেওয়া হয়েছে ইংল্যান্ডের ফুটবল সংস্থাকেও। বালোগুনের শাস্তির ক্ষেত্রে ফিফার এই নরম মনোভাবের নেপথ্যে আমেরিকার রাজনৈতিক চাপ কতটা কাজ করেছে, চিঠিতে তা অবিলম্বে তদন্ত করে দেখার আর্জি জানানো হয়েছে। এর আগে ইউরোপীয় সংসদের ৫০ জন সদস্য সরাসরি ফিফা সভাপতিকে চিঠি দিয়ে এই অন্যায্য সিদ্ধান্তের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। ফুটবলের স্বচ্ছতা রক্ষায় ইউরোপের এই সম্মিলিত চাপ ইনফান্তিনোর মসনদ শেষ পর্যন্ত টলাতে পারে কি না, গোটা ফুটবল বিশ্ব এখন সেদিকেই তাকিয়ে।





