নয়াদিল্লি: যাত্রীবাহী ট্রেনের পর এবার পণ্য পরিবহণেও ‘বন্দে ভারত’ যুগ! দেশে লজিস্টিক বা পণ্য পরিবহণ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে এবার বন্দে ভারতের আদলে তৈরি দ্রুতগতির মালগাড়ি চালু করতে চলেছে ভারতীয় রেল। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহেই ট্রায়াল রান শুরু হতে চলেছে দেশের প্রথম ‘পণ্যবাহী বন্দে ভারত’ ট্রেনের।
দেশের দ্রুততম মালগাড়ি
রেলমন্ত্রক সূত্রে খবর, এই নতুন পণ্যবাহী ট্রেনের সর্বোচ্চ গতিবেগ হবে ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার, যা একে দেশের দ্রুততম মালগাড়ির তকমা দেবে। বর্তমানে ভারতীয় রেলে যে মালগাড়িগুলি চলাচল করে, তাদের গড় গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটারেরও বেশ খানিকটা নিচে। এমনকি ‘ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর’-এও (DFC) এই বিপুল গতিতে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। ফলে নতুন এই ট্রেন চালু হলে পণ্য পরিবহণের সময় অভাবনীয়ভাবে কমে আসবে।
প্রথম রুট ও ট্রেনের সক্ষমতা
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের প্রথম পণ্যবাহী বন্দে ভারত ট্রেনটি ছুটবে দিল্লি-মুম্বই (Delhi-Mumbai) রুটে। জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই চেন্নাইয়ের ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরিতে (ICF) এই ট্রেনের একটি প্রোটোটাইপ রেক তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। লখনউয়ের আরডিএসও (RDSO)-র কড়া তত্ত্বাবধানে আগামী সপ্তাহেই এর ট্রায়াল রান হওয়ার কথা। রেল সূত্রে খবর, ১৬ কোচের এই পণ্যবাহী ট্রেনটি একসঙ্গে প্রায় ২৬৪ টন পর্যন্ত মাল বহনে সক্ষম হবে।
ভাড়া নিয়ে সংশয়
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ট্রেন চালু হলে পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন আসবে। একদিকে যেমন সময় বাঁচবে, তেমনই সামগ্রিক লজিস্টিক খরচও কমতে পারে। তবে একটি প্রশ্ন ইতিমধ্যেই মাথাচাড়া দিয়েছে, এই ট্রেনে পণ্য পরিবহণের ভাড়া ঠিক কতটা হবে? যাত্রীবাহী বন্দে ভারতের টিকিট মূল্য সাধারণ ট্রেনের তুলনায় অনেকটাই বেশি। সেই যুক্তিতে মাল পরিবহণের ক্ষেত্রেও ব্যবসায়ীদের পকেটে বেশি টান পড়তে পারে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ। যদিও ভাড়ার বিষয়ে রেলের তরফ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।
সব মিলিয়ে, বন্দে ভারতের এই নয়া পণ্যবাহী সংস্করণ ভারতীয় রেলের মুকুটে যে নতুন পালক যোগ করতে চলেছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।




















