ধর্ম পরিবর্তন সম্পর্কে জেডি ভ্যান্সের সামনেই ‘বিস্ফোরক’ উষা ভ্যান্স

ধর্মান্তর নিয়ে জল্পনার মাঝেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত উষা ভ্যান্স। তিনি জানালেন, হিন্দু পরিচয় নিয়ে তিনি স্বচ্ছন্দ এবং কখনও ধর্ম পরিবর্তনের প্রয়োজন অনুভব করেননি।

usha-vance-clarifies-hindu-identity-amid-conversion-speculation

নয়াদিল্লি: মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সম্প্রতি জানিয়েছিলেন, একদিন তাঁর স্ত্রী উষা ভ্যান্সও (Usha Vance) হয়তো ক্যাথলিক ধর্ম গ্রহণ করবেন বলে তিনি আশা করেন। সেই মন্তব্য ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হওয়ার পর এবার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত উষা ভ্যান্স।

এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, নিজের হিন্দু পরিচয় নিয়ে তিনি সবসময়ই স্বচ্ছন্দ এবং কখনও ধর্ম পরিবর্তনের প্রয়োজন অনুভব করেননি।

   

‘আমি সুখী ও নিরাপদ পরিবেশে বড় হয়েছি’

CBS News-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে উষা বলেন, “আমি একটি হিন্দু পরিবারে বড় হয়েছি। আমার শৈশব খুবই সুখী ও নিরাপদ পরিবেশে কেটেছে। তাই আমার স্বামীর মতো অন্য কোনও আধ্যাত্মিক পথ খোঁজার প্রয়োজন কখনও অনুভব করিনি।”

উল্লেখ্য, জেডি ভ্যান্স ২০১৯ সালে ক্যাথলিক ধর্ম গ্রহণ করেন। তার আগে তিনি নিজেকে নাস্তিক বলে পরিচয় দিতেন। সেই সময়েই উষার সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

ধর্মান্তর নিয়ে জল্পনায় ইতি

সাক্ষাৎকারে উষা ভ্যান্স স্পষ্ট করেন, অনেকেই ভুলভাবে মনে করেন তাঁর স্বামী প্রতিনিয়ত তাঁকে ধর্ম পরিবর্তনের জন্য চাপ দেন।

এই প্রসঙ্গে তিনি মজার ছলে বলেন, “তুমি থেরাপি চেষ্টা করেছিলে, কিন্তু তোমার ক্ষেত্রে চার্চ কাজ করেছে।”

তিনি আরও বলেন, “অনেকেই মনে করেন জেডি আমার ধর্মান্তর চেয়েছেন। বিষয়টি আসলে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তিনি ক্যাথলিক, তাই নিজের বিশ্বাসের কথা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেন। কিন্তু এমন নয় যে তিনি প্রতিদিন আমাকে ধর্ম পরিবর্তনের কথা বলেন।”

ভারতীয় শিকড় ও হিন্দু ঐতিহ্য

উষা ভ্যান্স মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ভারতীয় অভিবাসী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পেশায় আইনজীবী এবং মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের আইন সহকারী হিসেবেও কাজ করেছেন।

তিনি অতীতেও একাধিকবার জানিয়েছেন, তাঁর বেড়ে ওঠা এবং পারিবারিক সংস্কৃতি গভীরভাবে হিন্দু ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত।

রাজনৈতিক ও একাডেমিক মহলে আলোচনা

উষার এই মন্তব্যকে অনেকেই ব্যক্তিগত ধর্মীয় পরিচয়ের দৃঢ় প্রকাশ হিসেবে দেখছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক রিচার্ড হানানিয়া সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, “জেডি ভ্যান্স নিজের জীবনের অনেক কিছু বদলেছেন, কিন্তু উষাকে বদলাতে পারেননি।”

দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসবিদ অড্রে ট্রুশকে মন্তব্য করেন, উষার বক্তব্য দেখায় যে হিন্দু পরিচয় শুধুমাত্র ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং পারিবারিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত।

জেডি ভ্যান্সের ধর্মীয় যাত্রা

সম্প্রতি প্রকাশিত নিজের বই Communion: Finding My Way Back to Faith-এ জেডি ভ্যান্স ধর্মীয় জীবনে ফিরে আসার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন।

সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন, বিবাহ এবং পারিবারিক জীবন তাঁকে ক্যাথলিক ধর্মের দিকে আকৃষ্ট করেছিল। তবে তিনি এটাও লিখেছেন যে নিজের বিশ্বাস কখনও স্ত্রীর উপর চাপিয়ে দিতে চান না।

পাকিস্তান প্রসঙ্গেও বিতর্ক

সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডে এক অনুষ্ঠানে জেডি ভ্যান্সের একটি মন্তব্যও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে।

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের উপস্থিতিতে তিনি বলেন, “আমার জীবনে দু’জন খুব গুরুত্বপূর্ণ মানুষ আছেন। একজন ভারতীয়, তিনি আমার স্ত্রী। আর অন্যজন পাকিস্তানি, তিনি ফিল্ড মার্শাল মুনির।”

পরবর্তীতে এক পাকিস্তানি সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “আমি পাকিস্তানকে ভালোবাসি।”

এই মন্তব্য মার্কিন রাজনীতির রক্ষণশীল অংশের একাংশের মধ্যে বিতর্ক তৈরি করেছে।

তবে ধর্ম, পরিবার এবং ব্যক্তিগত পরিচয় নিয়ে উষা ভ্যান্সের সাম্প্রতিক বক্তব্য নতুন করে আলোচনায় এনেছে আন্তঃধর্মীয় বিবাহ ও ব্যক্তিগত বিশ্বাসের স্বাধীনতার বিষয়টিকে।