শান্তির বার্তা নাকি রাজনৈতিক কৌশল? আট যুদ্ধ থামানোর দাবি ট্রাম্পের

দশ মাসে আটটি যুদ্ধ থামানোর দাবি ফের একবার করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, তাঁর নেতৃত্বেই বিশ্বের…

Trump Revives Claim of Stopping Eight Wars, Critics Question Motive

দশ মাসে আটটি যুদ্ধ থামানোর দাবি ফের একবার করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, তাঁর নেতৃত্বেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চলা একাধিক সংঘর্ষ থামানো সম্ভব হয়েছে। এই দাবি ঘিরে যেমন সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে, তেমনই বিরোধীদের মধ্যে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ট্রাম্পের বক্তব্যে শান্তির বার্তা যেমন উঠে এসেছে, তেমনই স্পষ্ট হয়েছে তাঁর রাজনৈতিক কৌশলের ইঙ্গিতও।

বক্তব্য রাখতে গিয়ে ট্রাম্প জানান, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে শক্ত অবস্থান নেওয়ার ফলেই তিনি এত কম সময়ে একাধিক যুদ্ধ থামাতে পেরেছেন। তাঁর মতে, কূটনৈতিক চাপ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং কঠোর বার্তার মাধ্যমেই বিরোধী দেশগুলিকে আলোচনার টেবিলে আনতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, “আমি যখন কথা বলি, তখন বিশ্ব শোনে। কারণ তারা জানে, আমি আমার সিদ্ধান্তে অটল থাকি।” এই মন্তব্যের মধ্য দিয়েই তিনি নিজের নেতৃত্বের দৃঢ়তা তুলে ধরার চেষ্টা করেন।

Advertisements

এই বক্তব্যে ট্রাম্পের আর একটি মন্তব্য বিশেষভাবে নজর কাড়ে। তিনি বলেন, ইংরেজি ভাষায় তাঁর প্রিয় শব্দ হলো “ট্যারিফ” বা শুল্ক। তাঁর মতে, শুল্ক নীতি শুধু অর্থনৈতিক হাতিয়ার নয়, বরং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটি শক্তিশালী অস্ত্র। ট্রাম্প দাবি করেন, শুল্ক বাড়ানোর হুমকি দিয়েই তিনি একাধিক দেশকে নিজেদের অবস্থান বদলাতে বাধ্য করেছেন। তাঁর ভাষায়, “ট্যারিফ মানে শুধু টাকা নয়, ট্যারিফ মানে ক্ষমতা।” এই মন্তব্য স্পষ্টভাবে তাঁর ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিরই প্রতিফলন।

বক্তৃতার এক পর্যায়ে ট্রাম্প তাঁর পূর্বসূরি জো বাইডেনের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, বাইডেনের নেতৃত্বে আমেরিকার আন্তর্জাতিক প্রভাব কমে গিয়েছিল এবং বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় সংঘর্ষ আরও বেড়েছিল। ট্রাম্পের দাবি, বাইডেন প্রশাসনের দুর্বল নীতির কারণেই শত্রু দেশগুলি সাহস পেয়ে যায়। তিনি বলেন, “ওরা জানত, তখন হোয়াইট হাউসে শক্ত কেউ নেই।” এই মন্তব্য ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য আসন্ন রাজনৈতিক লড়াইয়ের দিকেই ইঙ্গিত করছে। যুদ্ধ থামানোর কৃতিত্ব দাবি করে তিনি নিজেকে একজন ‘শান্তির দূত’ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন। একই সঙ্গে শুল্ক ও শক্ত নীতির কথা বারবার উল্লেখ করে তিনি তাঁর পুরনো সমর্থক শ্রেণিকে আরও একবার একত্রিত করার চেষ্টা করছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি নিছক বক্তব্য নয়, বরং সুপরিকল্পিত প্রচার কৌশল।

তবে ট্রাম্পের আটটি যুদ্ধ থামানোর দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। সমালোচকদের দাবি, তিনি যেসব সংঘর্ষের কথা বলছেন, সেগুলির অনেক ক্ষেত্রেই যুদ্ধ পুরোপুরি থামেনি, বরং সাময়িক যুদ্ধবিরতি হয়েছে। আবার কিছু ক্ষেত্রে আগের প্রশাসনের কূটনৈতিক উদ্যোগকেই তিনি নিজের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এই প্রসঙ্গে ট্রাম্প অবশ্য কোনও দ্বিধা না দেখিয়ে বলেন, ফলই আসল, কৃতিত্ব নিয়ে বিতর্ক অর্থহীন।