নয়াদিল্লি: ২০২০ সালের উত্তর-পূর্ব দিল্লির দাঙ্গার সময় (Tahir Hussain)ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (IB)-র কর্মকর্তা অঙ্কিত শর্মা হত্যাকাণ্ডে প্রাক্তন আম আদমি পার্টি (আপ) কাউন্সিলর তাহির হুসেন এবং আরও চার জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল দিল্লির একটি আদালত। বৃহস্পতিবার কারকারডুমা আদালত এই বহুল আলোচিত মামলায় সাজা ঘোষণা করে।
এর আগে চলতি মাসেই আদালত তাহির হুসেন-সহ পাঁচ অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল। তবে দিল্লি পুলিশ এই ঘটনাকে “বিরলতমের মধ্যে বিরল” (Rarest of Rare) অপরাধ বলে উল্লেখ করে মৃত্যুদণ্ডের আবেদন জানিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত আদালত মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়।
আরও দেখুনঃ ‘ওঁর আত্মত্যাগ ভোলা সম্ভব নয়’: সোনামের সঙ্গে দূরত্বের জল্পনা ওড়ালেন আরশোলা নেতা
এই মামলাটি ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে সংঘটিত ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার অন্যতম আলোচিত ঘটনা। সেই দাঙ্গায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছিল এবং ব্যাপক সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। ওই সময় আইবি-র কর্মকর্তা অঙ্কিত শর্মার রহস্যজনক মৃত্যু দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরে তাঁর দেহ একটি নালার ভিতর থেকে উদ্ধার করা হয়। তদন্তে উঠে আসে, তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
সাজা ঘোষণার আগে আদালতে দিল্লি পুলিশের বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি মধুকর পাণ্ডে কঠোর শাস্তির পক্ষে জোরালো সওয়াল করেন। তিনি আদালতকে জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী অঙ্কিত শর্মার শরীরে মোট ৫১টি আঘাতের চিহ্ন ছিল। এর মধ্যে সাতটি আঘাতই মৃত্যুর জন্য যথেষ্ট ছিল। প্রসিকিউশনের দাবি, এই হত্যাকাণ্ড ছিল সম্পূর্ণ পরিকল্পিত এবং অত্যন্ত নৃশংস। তাঁদের অভিযোগ, অঙ্কিত শর্মাকে একদল হামলাকারী ঘিরে ফেলে দীর্ঘ সময় ধরে আক্রমণ চালায়। পরে তাঁর গলায় কাপড় বেঁধে টেনে নিয়ে গিয়ে একটি নালায় ফেলে দেওয়া হয়।
আরও দেখুনঃ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যকলাপে লাগাম ভারতের: প্রত্যর্পণ নিয়ে কী জানাল কেন্দ্র?
বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি আরও দাবি করেন, ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া প্রমাণ এবং সাক্ষীদের বয়ান অনুযায়ী, অঙ্কিত শর্মার শরীরের বেশিরভাগ পোশাক খুলে নেওয়া হয়েছিল এবং উদ্ধার হওয়ার সময় তাঁর পরনে শুধু অন্তর্বাস ছিল। এই ঘটনাকে তিনি চরম নৃশংসতার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, যাঁরা আজ আদালতের কাছে দয়া প্রার্থনা করছেন, তাঁদেরও ঘটনার সময় মানবিকতা দেখানো উচিত ছিল।
প্রসিকিউশনের আরও বক্তব্য ছিল, ঘটনার সময় তাহির হুসেন একজন নির্বাচিত এমসিডি কাউন্সিলর তথা জন প্রতিনিধি ছিলেন। ফলে এলাকার একজন দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর কর্তব্য ছিল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু সেই দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে তিনি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ করে দিল্লি পুলিশ।
অন্যদিকে, তাহির হুসেনের আইনজীবী রাজীব মোহন আদালতের কাছে নমনীয় মনোভাব গ্রহণের আবেদন জানান। তাঁর যুক্তি ছিল, প্রতিটি হত্যাকাণ্ডে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যায় না এবং সাজা নির্ধারণের ক্ষেত্রে অভিযুক্তের পক্ষে থাকা বিভিন্ন প্রশমক (Mitigating) বিষয়ও বিবেচনা করা প্রয়োজন। তিনি আরও দাবি করেন, অঙ্কিত শর্মাকে হত্যার ঘটনায় তাহির হুসেনের নির্দিষ্ট ভূমিকা প্রসিকিউশন প্রমাণ করতে পারেনি। ষড়যন্ত্রের অভিযোগও যথেষ্ট প্রমাণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়নি বলে তাঁর দাবি।
আরও দেখুনঃ বহুবিবাহ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধকরণ মামলায় মোদীসরকারকে ৪ সপ্তাহের ডেডলাইন সুপ্রমকোর্টের সুপ্রিমকোর্টের
তবে মামলার নথি, সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং উভয় পক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়। আদালতের এই রায় ২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গা-সংক্রান্ত অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে এই মামলায় আদালতের রায় দাঙ্গার সময় সংঘটিত অপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবেও দেখা হচ্ছে।





