নয়াদিল্লি: দেশের মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বহুবিবাহ (Supreme Court)সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার দাবিতে দায়ের করা এক আবেদনে কেন্দ্রের কাছে নোটিশ জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট। নারী অধিকার কর্মী জাকিয়া সোমানের দায়ের করা এই পিটিশনে শুধু বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করাই নয়, সব বিবাহের বাধ্যতামূলক নিবন্ধন, ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের জন্য নিশ্চিত ভরণপোষণ, উত্তরাধিকার ও আবাসনের অধিকারের দাবিও করা হয়েছে।
প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই আবেদনের শুনানিতে কেন্দ্র সরকারকে নোটিশ জারি করে চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলেছে। জাকিয়া সোমান, যিনি ভারতীয় মুসলিম মহিলা আন্দোলনের (BMMMA) প্রতিষ্ঠাতা, দীর্ঘদিন ধরে মুসলিম নারীদের অধিকার নিয়ে লড়াই করে আসছেন।
আরও দেখুনঃ পাথরের জায়গায় অন্যকিছু ছুড়লেও ছাত্রদের সমর্থন করার বার্তা শঙ্করাচার্যের
তিনি বলেন, “বহুবিবাহ নারীদের মর্যাদা ও নিরাপত্তাকে ক্ষুণ্ণ করে। এটি সাংবিধানিক সমতার নীতিরও লঙ্ঘন।”পিটিশনে উল্লেখ করা হয়েছে, বহুবিবাহের কারণে অনেক মুসলিম নারী মানসিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।
স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করলে প্রথম স্ত্রী ও সন্তানদের জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। জাকিয়া সোমানের আবেদনে বলা হয়েছে, সব বিবাহ নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করলে এ ধরনের সমস্যা কমবে এবং নারীদের আইনি সুরক্ষা বাড়বে।মুসলিম ব্যক্তিগত আইন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে। শাহ বানো মামলা থেকে শুরু করে ট্রিপল তালাক নিষিদ্ধ করার ঘটনা পর্যন্ত বিভিন্ন ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ দেখা গেছে।
জাকিয়া সোমানের এই পিটিশন সেই ধারাবাহিকতায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তিনি বলেন, “সমতা ও ন্যায়ের ভিত্তিতে সব নাগরিকের জন্য একই আইন হওয়া উচিত। ব্যক্তিগত আইনের নামে নারীদের বঞ্চিত করা যায় না।”নারী অধিকার কর্মীরা এই পিটিশনকে স্বাগত জানিয়েছেন। একজন মহিলা অ্যাকটিভিস্ট বলেন, “বহুবিবাহ অনেক পরিবারকে ভেঙে দেয়।
আরও দেখুনঃ দেশের নেতাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ-খুনের মামলা, তবুও অশ্লীল শব্দ ব্যাবহারে FIR কেন? প্রশ্ন সৌরভের
নারীরা অর্থনৈতিকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। বাধ্যতামূলক নিবন্ধন ও ভরণপোষণের অধিকার নিশ্চিত করলে অনেকাংশে এই সমস্যা সমাধান হবে।” অন্যদিকে, কিছু ধর্মীয় সংগঠন এই ধরনের হস্তক্ষেপকে ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ বলে মনে করছেন। তবে জাকিয়া সোমান জোর দিয়ে বলেছেন, ধর্মের নামে নারী নির্যাতন মেনে নেওয়া যায় না।





