নয়াদিল্লি: টানা ২৩ দিন অনশনের পর অবশেষে সোমবার নিজের অনশন প্রত্যাহার করলেন সমাজসেবী সোনম ওয়াংচুক। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠকের পরেই এই সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ায় গত ১৮ জুলাই থেকেই দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন সোনম। এদিন মন্ত্রী নাড্ডার সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনার পরই তিনি অনশন ভাঙার কথা ঘোষণা করেন।
কী বললেন জেপি নাড্ডা?
সোশ্যাল মিডিয়া এক্স (সাবেক টুইটার)-এ জেপি নাড্ডা জানিয়েছেন, এদিন সকাল থেকেই আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারের আলোচনা চলছিল। মন্ত্রী জানান, “সকাল ১১টা ৫০ মিনিট নাগাদ আন্দোলনকারীদের তরফে প্রথমবার আলোচনার প্রস্তাব আসে। একটি আন্তরিক পরিবেশে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা হয়েছে। বিকেল ৪টে নাগাদ তাঁরা আমাকে একটি লিখিত আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন।” নাড্ডা আরও জানান, তিনি আন্দোলনকারীদের অনশন প্রত্যাহার করে প্রশাসনকে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
সিজেপি-র অনশন প্রত্যাহার
কেবল সোনম ওয়াংচুকই নয়, এদিন অনশন প্রত্যাহার করেছেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। নিট (NEET) পরীক্ষা সংক্রান্ত বিতর্কের জেরে আত্মহত্যা করা এক পরীক্ষার্থীর বাবার অনুরোধ এবং সোনম ওয়াংচুকের আবেদনে সাড়া দিয়েই তিনি তাঁর আমরণ অনশন ভাঙেন। তবে সিজেপি নেতৃত্বের সাফ কথা, শিক্ষাক্ষেত্রে সংস্কারের দাবিতে তাঁদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
চলছিল সংসদ অভিযান
সোমবার সংসদের বাদল অধিবেশন শুরুর দিনেই ‘চলো সংসদ’ অভিযানের ডাক দিয়েছিল বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও আন্দোলনকারীরা। যন্তর মন্তরে জড়ো হয়েছিল হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী ও যুবসমাজ। এই আন্দোলনের আঁচেই রবিবার সোনম ওয়াংচুক জানিয়েছিলেন, কেন্দ্র যদি শিক্ষাব্যবস্থায় ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে বা সংসদের অধিবেশনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার আশ্বাস দেয়, তবেই তিনি অনশন ভাঙবেন। সেই দাবির প্রেক্ষিতেই এদিন সরকারের সক্রিয়তা ও বৈঠকের পর অনশন প্রত্যাহার করা হলো।
সব মিলিয়ে, টানা ২৩ দিনের অনশন শেষে সোনম ওয়াংচুকের এই সিদ্ধান্ত রাজধানী দিল্লির উত্তপ্ত রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতিতে কিছুটা হলেও স্বস্তি বয়ে আনল।
আধার কার্ডের সুরক্ষায় নতুন আপডেট: বায়োমেট্রিক লক কেন জরুরি?
দিল্লিকে অশান্ত করে তুলতে আরশোলার সঙ্গে রাজপথে পাঞ্জাবের কৃষকরা





