দিল্লিকে অশান্ত করে তুলতে আরশোলার সঙ্গে রাজপথে পাঞ্জাবের কৃষকরা

নয়াদিল্লি: দিল্লির রাজপথে বলছে আরশোলা পার্টির বিক্ষোভ। (Punjab Farmers)NEET পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে চলছে এই বিক্ষোভ। এই আবহে পঞ্জাবের কৃষকরা ফের আন্দোলনের…

punjab-farmers-delhi-march

নয়াদিল্লি: দিল্লির রাজপথে বলছে আরশোলা পার্টির বিক্ষোভ। (Punjab Farmers)NEET পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে চলছে এই বিক্ষোভ। এই আবহে পঞ্জাবের কৃষকরা ফের আন্দোলনের পথে নামছেন। আগামীকাল তাঁরা দিল্লির কিষাণ ঘাটের দিকে ‘দেশ বাঁচাও মোর্চা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ট্র্যাক্টর মিছিল নিয়ে রওনা দেবেন।

কৃষক নেতারা অভিযোগ করেছেন, কেন্দ্র সরকারের সঙ্গে আমেরিকার একটি ‘গোপন’ বাণিজ্য চুক্তি ভারতীয় কৃষকদের স্বার্থের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হবে। এই চুক্তির ফলে সস্তা আমেরিকান কৃষিপণ্য ভারতীয় বাজারে ঢুকে পড়বে এবং দেশীয় কৃষকরা আরও সংকটে পড়বেন বলে তাঁরা আশঙ্কা করছেন।পঞ্জাবের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার কৃষক ট্র্যাক্টর নিয়ে এই মিছিলে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।

আরও দেখুনঃ পুলিশের জালে বিস্কুট কারখানায় গোমাংসের কারবার! একই পাত্রে রান্না হত মাংস

কৃষক সংগঠনগুলোর নেতারা বলছেন, “আরশোলায় রক্ষা নেই। সরকার যদি কৃষকদের কথা না শোনে, তাহলে আমরা দিল্লি অভিমুখে যাত্রা করব।” তাঁরা দাবি করেছেন যে, ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির খসড়া সম্পূর্ণ গোপন রাখা হয়েছে। এতে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা করা হয়নি। বিশেষ করে দুধ, শস্য এবং অন্যান্য কৃষিপণ্যের ওপর প্রভাব পড়বে।কৃষক নেতা জগজিৎ সিং দল্লা বলেন, “এই চুক্তি হলে আমেরিকান কোম্পানিগুলো ভারতীয় বাজার দখল করে নেবে।

আমাদের ছোট ছোট চাষিরা আর টিকতে পারবেন না। তাই আমরা দেশ বাঁচাতে রাস্তায় নেমেছি।” পঞ্জাবের কৃষকরা ইতিমধ্যে বিভিন্ন জায়গায় প্রস্তুতি শুরু করেছেন। ট্র্যাক্টরে জাতীয় পতাকা ও কৃষকদের দাবি সম্বলিত ব্যানার লাগানো হচ্ছে। তাঁরা বলছেন, এই মিছিল শান্তিপূর্ণ হবে, কিন্তু দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা ফিরবেন না।কেন্দ্র সরকার অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, ভারত-মার্কিন বাণিজ্য আলোচনা চলছে, কিন্তু কোনো গোপন চুক্তি হয়নি।

আরও দেখুনঃ ‘পুরোপুরি সুস্থ, আমাকে যেতে দিন!’ হাসপাতাল থেকে সংসদ অভিযানের ডাক সোনমের

কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা করে সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে কৃষক সংগঠনগুলো এই বক্তব্যে সন্তুষ্ট নয়। তাঁরা দাবি করছেন, সরকার যেন চুক্তির খসড়া প্রকাশ্যে আনুক এবং কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা করুক।দিল্লি পুলিশ ইতিমধ্যে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। হরিয়ানা-দিল্লি সীমান্তে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। গতবারের কৃষক আন্দোলনের স্মৃতি এখনও তাজা থাকায় প্রশাসন চায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটুক।

কিন্তু কৃষক নেতারা বলছেন, তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করবেন এবং কোনো আইন ভাঙবেন না।পঞ্জাবের কৃষি সংকট দীর্ঘদিনের। কৃষকরা ঋণের বোঝা, ফসলের ন্যায্য দাম না পাওয়া এবং কর্পোরেটদের আগ্রাসন নিয়ে চিন্তিত। এই নতুন বাণিজ্য চুক্তি তাঁদের কাছে নতুন হুমকি বলে মনে হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি চুক্তিতে আমেরিকান কৃষিপণ্যের শুল্ক কমানো হয়, তাহলে ভারতীয় বাজারে দামের প্রতিযোগিতায় দেশীয় চাষিরা পিছিয়ে পড়বেন।কৃষকদের এই আন্দোলন শুধু পঞ্জাবের নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কৃষকদেরও প্রভাবিত করতে পারে। ইতিমধ্যে উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা এবং রাজস্থানের কিছু সংগঠনও সমর্থন জানিয়েছে। তাঁরা বলছেন, কৃষকদের স্বার্থ না দেখে বাণিজ্য চুক্তি করা হলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে।

আরও দেখুনঃ ‘বন্দে মাতরম অবমাননা বিল মুসলিমদের কোনঠাসা করার জন্য!’ মত জঙ্গি উমর খালিদ পিতার