বেসরকারি মহাকাশ যাত্রার নতুন অধ্যায়! শ্রীহরিকোটা থেকে উৎক্ষেপণের প্রস্তুতিতে স্কাইরুটের বিক্রম-১

শ্রীহরিকোটা: শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টারে এখন উৎসবের আমেজ (Skyroot)। ভারতের প্রথম বেসরকারি উন্নয়নকৃত অরবিটাল ক্লাস রকেট ‘বিক্রম-১’ শিগগিরই আকাশে উড়বে। হায়দরাবাদের স্টার্টআপ স্কাইরুট এরোস্পেসের…

skyroot-vikram-1-launch

শ্রীহরিকোটা: শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টারে এখন উৎসবের আমেজ (Skyroot)। ভারতের প্রথম বেসরকারি উন্নয়নকৃত অরবিটাল ক্লাস রকেট ‘বিক্রম-১’ শিগগিরই আকাশে উড়বে। হায়দরাবাদের স্টার্টআপ স্কাইরুট এরোস্পেসের এই রকেটটি শুধু একটি প্রযুক্তিগত সাফল্য নয়, বরং ভারতীয় মহাকাশ খাতে বেসরকারি উদ্যোগের এক ঐতিহাসিক মাইলফলক।

যেখানে একসময় শুধু ইসরোর একক আধিপত্য ছিল, সেখানে এখন যুবক-যুবতীদের স্বপ্নের ইঞ্জিনিয়ারিং দল তৈরি করছে নতুন ইতিহাস।বিক্রম-১ রকেটটি প্রায় সাততলা উঁচু, পুরোপুরি কার্বন কম্পোজিট দিয়ে তৈরি। এর উচ্চতা প্রায় ২০-২৪ মিটার। তিনটি সলিড ফুয়েল স্টেজ এবং একটি লিকুইড অরবিটাল অ্যাডজাস্টমেন্ট মডিউল (ওএএম) দিয়ে চালিত এই রকেটটি ৩৫০ কেজি পর্যন্ত পেলোডকে ৪৫০ কিলোমিটার উচ্চতার লো আর্থ অরবিটে (এলইও) পৌঁছে দিতে সক্ষম।

আরও দেখুনঃ বিকট জোরে বিস্ফোরণ! ব্যাপক চাঞ্চল্য রাজারহাটে

এই মিশনের ইনক্লিনেশন ৬০ ডিগ্রি, যা নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে স্যাটেলাইট স্থাপনের জন্য আদর্শ। মিশনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘আগমন’ যার অর্থ ‘আগমন’ বা নতুন যুগের আগমন।স্কাইরুট এরোস্পেসের যাত্রা শুরু হয়েছিল মাত্র কয়েক বছর আগে। ইসরোর প্রাক্তন বিজ্ঞানীদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত এই কোম্পানি দ্রুতই প্রমাণ করেছে যে, বেসরকারি খাতও মহাকাশে প্রতিযোগিতা করতে পারে।

তাদের প্রথম সাব-অরবিটাল মিশন বিক্রম-এস সফল হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এখন তারা পুরোদমে অরবিটাল লঞ্চের প্রস্তুতি নিচ্ছে। রকেটের প্রথম স্টেজে ‘কলম-১০০০’ ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে, যা ১০০০ কিলোনিউটন থ্রাস্ট তৈরি করতে সক্ষম। উপরের স্টেজগুলোতে অত্যাধুনিক থ্রাস্ট ভেক্টর কন্ট্রোল এবং ৩ডি প্রিন্টেড কম্পোনেন্টস ব্যবহার করা হয়েছে, যা খরচ কমায় এবং নির্ভরযোগ্যতা বাড়ায়।

এই লঞ্চের বিশেষ আকর্ষণ হলো পেলোড। শুধু বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট নয়, এতে থাকছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাতে লেখা একটি বিশেষ পোস্টকার্ড। তাতে লেখা ‘বন্দে মাতরম’। রকেটের নীল অংশগুলোতে লেখা আছে টিমের সদস্য, বিনিয়োগকারী এবং শুভানুধ্যায়ীদের নাম হাতে লেখা, আবেগঘন। এটি শুধু একটি প্রযুক্তিগত মিশন নয়, বরং হাজারো ভারতীয়ের স্বপ্নের প্রতীক।

আরও দেখুনঃ মমতা-অভিষেককে মুছে ফেললেন মদন

স্কাইরুটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং ইঞ্জিনিয়াররা জানিয়েছেন, এই সাফল্যের পেছনে আছে দীর্ঘ পরিশ্রম, ইসরোর সহযোগিতা এবং সরকারের স্পেস সেক্টরে নীতিগত সংস্কার। ইন-স্পেসের মতো উদ্যোগ বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে উৎসাহিত করেছে। সিঙ্গাপুরের জিআইসি, টেমাসেকের মতো বড় বিনিয়োগকারীরাও এতে আস্থা রেখেছেন। ফলে ভারত এখন মহাকাশে শুধু সরকারি নয়, বেসরকারি খেলোয়াড়দেরও উপস্থিতি দেখতে পাচ্ছে।