ছাপরা: বিহারের ছাপরায় (সারণ জেলা) তথাকথিত ছাত্র (BDO attack)আন্দোলনের মধ্যে ঘটে গিয়েছে এক ভয়াবহ ঘটনা। জেলা প্রশাসনের ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক (BDO) ঋতেশ কুমার সিংহ গুরুতর আহত হয়েছেন। পাথর ছোড়ার আঘাতে তাঁর খুলি ফেটে গেছে। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে সিজেপি (CJP)-এর ডাকা “জেন-জেড” ছাত্রদের আন্দোলনের সময়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীরা পাথর ছুড়ে বি ডি ও’র গাড়ি লক্ষ্য করে আক্রমণ করে। আঘাত এতটাই গুরুতর যে ঋতেশ কুমার সিংহের মাথায় একাধিক স্থানে চোট লাগে এবং খুলির হাড় ভেঙে যায়। দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক।
আরও দেখুনঃ ‘ধর্মেন্দ্রকে পদত্যাগ করিয়ে বিদেশি ষড়যন্ত্র সামনে এনেছে কেন্দ্র!’ বিস্ফোরক বিজয়বর্গী
এই ঘটনায় জেলা প্রশাসন ও পুলিশের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যে একাধিক মামলা দায়ের করেছে এবং কয়েকজনকে আটকও করা হয়েছে। কিন্তু আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে এফআইআর প্রত্যাহারের দাবি উঠেছে।
সিজেপি কেন্দ্রীয় সরকার ও এনডিএ শাসিত রাজ্যগুলোর বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। এখানেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে এই ধরণের অত্যাচারের পরও কিভাবে সমস্ত অভিযোগ তুলে নেওয়া যেতে পারে।
এই দাবি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক চরমে উঠেছে। বিজেপি ও এনডিএ শিবিরের নেতারা বলছেন, “একজন সরকারি আধিকারিকের উপর এমন নৃশংস আক্রমণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এটা ছাত্র আন্দোলন নয়, সন্ত্রাসবাদের শামিল।” তাঁরা আরও বলেন, আন্দোলনের নামে সরকারি কর্মীদের উপর হামলা চললে প্রশাসন চলবে কীভাবে?অন্যদিকে, ছাত্র সংগঠনগুলো দাবি করছে যে, আন্দোলন শান্তিপূর্ণ ছিল এবং পুলিশের প্ররোচনায় এই ঘটনা ঘটেছে।
আরও দেখুনঃ যন্তরমন্তরে NEET ছাত্রদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি! কাঠগড়ায় আরশোলা নেতা অভিজিত
তাঁরা এফআইআর প্রত্যাহারের পাশাপাশি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। সিজেপি নেতারা বলছেন, “ছাত্রদের আন্দোলনকে দমন করতে সরকার মিথ্যা মামলা দায়ের করছে। আমরা সব মামলা প্রত্যাহার চাই।”বিহারের এই ঘটনা জাতীয় স্তরে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। নিট-সহ বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলন চলেছে। ছাপরার ঘটনা সেই আন্দোলনেরই একটি অংশ। এবং এই ঘটনার পরে সরকার সমস্ত অভিযোগ তুলে নেবে কিনা তা সময়ই বলবে।





