জেল থেকে ছাড়া পেয়ে খান স্যারকে দেখে নেব হুমকি রওশন আনন্দের

পটনার বহুল আলোচিত কোচিং সেন্টার বিরোধ নতুন মোড় নিল। (Khan Sir)১৫ জুন তারিখে পটনা সিভিল কোর্ট থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর ‘জ্ঞান বিন্দু’ কোচিং সেন্টারের…

roshan-sir-vs-khan-sir-controversy

পটনার বহুল আলোচিত কোচিং সেন্টার বিরোধ নতুন মোড় নিল। (Khan Sir)১৫ জুন তারিখে পটনা সিভিল কোর্ট থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর ‘জ্ঞান বিন্দু’ কোচিং সেন্টারের ডিরেক্টর রওশন আনন্দ, যিনি শিক্ষার্থীদের কাছে ‘রওশন স্যার’ নামে পরিচিত, সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী শিক্ষক খান স্যারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন।

আদালত চত্বরের বাইরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন, তাঁর ছোট ভাই প্রিন্স আনন্দের মৃত্যু স্বাভাবিক নয়, বরং এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং এর পেছনে খান স্যারের ভূমিকা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।

   

আরও দেখুনঃ https://kolkata24x7.in/west-bengal/big-reform-in-job-examinations-as-candidates-can-now-retain-their-omr-answer-sheets/

জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর রওশন স্যার অত্যন্ত আবেগপ্রবণ ও ক্ষুব্ধ অবস্থায় সাংবাদিকদের বলেন, “উনি কোনো শিক্ষক নন, উনি আমার ভাইয়ের হত্যাকারী। আমার ভাইকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও জানান, এই ঘটনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত তিনি লড়াই চালিয়ে যাবেন এবং কোনো অবস্থাতেই আপস করবেন না। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল যে ভাইয়ের মৃত্যু তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে এবং তিনি বিষয়টিকে ব্যক্তিগত ও ন্যায়বিচারের লড়াই হিসেবে দেখছেন।

ঘটনার সূত্রপাত কয়েক সপ্তাহ আগে। পাটনার দুই জনপ্রিয় কোচিং প্রতিষ্ঠান ‘খান গ্লোবাল স্টাডিজ’ এবং ‘জ্ঞান বিন্দু জিএস একাডেমি’-র মধ্যে তীব্র বিরোধ তৈরি হয়। মূলত বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার টপারদের কৃতিত্ব দাবি করা এবং শিক্ষার্থী আকর্ষণকে কেন্দ্র করে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে জুন মাসের শুরুতে খান স্যারের কোচিং সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর এবং গুলিবর্ষণের অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় পুলিশের তদন্তের ভিত্তিতে রওশন আনন্দকে গ্রেফতার করা হয়। প্রায় ১২ দিন জেলে থাকার পর অবশেষে তিনি জামিন পান।

এদিকে এই মামলার আরেক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ছিলেন রওশন স্যারের ছোট ভাই প্রিন্স আনন্দ। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, খান স্যারের কোচিং সেন্টারে হামলার ঘটনায় প্রিন্স আনন্দও অন্যতম অভিযুক্ত ছিলেন। অভিযোগের পর গ্রেফতারি এড়াতে তিনি কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে নেপালে চলে যান। কিন্তু ১৪ জুন, ২০২৬ তারিখে নেপালের একটি হোটেলে রহস্যজনক পরিস্থিতিতে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। নেপাল এবং ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করছে।