নয়াদিল্লি: সাধারণতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজ হোক বা রাষ্ট্রপতি ভবনের কোনো রাজকীয় অনুষ্ঠান, সুসজ্জিত ঘোড়ায় চড়া দীর্ঘকায়, সুঠাম চেহারার রক্ষীদের প্রায়শই দেখা যায়। এঁরাই হলেন ভারতীয় সেনার প্রাচীনতম এবং সবচেয়ে এলিট রেজিমেন্ট, ‘প্রেসিডেন্টস বডিগার্ড’ (PBG)। তবে রাজকীয় এই বাহিনীর নিয়োগ বিধি ও ইতিহাস অনেকেরই অজানা।
৩ সম্প্রদায়ের একচেটিয়া সুযোগ
ভারতীয় সেনা বর্তমানে সব অঞ্চল ও সম্প্রদায়ের নিয়োগ নীতি মেনে চললেও, PBG-র ক্ষেত্রে নিয়মটি ভিন্ন। এই ইউনিটের সাধারণ সৈন্য বা ট্রুপার পদে কেবল তিনটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায় থেকে নিয়োগ করা হয় হিন্দু জাট (৩৩.৩%), হিন্দু রাজপুত (৩৩.৩%), জাট শিখ (৩৩.৩%)৷ ১৭৭৩ সালে ওয়ারেন হেস্টিংসের হাতে তৈরি এই বাহিনী দেশভাগের পর ঐতিহ্য বজায় রাখতেই এই নির্দিষ্ট আনুপাতিক কাঠামো স্থায়ী করে।
আইনি বিতর্ক ও সেনার যুক্তি President’s Bodyguard recruitment rules
কেবল তিনটি সম্প্রদায় থেকে নিয়োগের এই নীতি সংবিধানের সমতার অধিকার লঙ্ঘন করছে কি না, তা নিয়ে একাধিকবার আদালতে জনস্বার্থ মামলা হয়েছে। তবে ভারতীয় সেনা জোরালো যুক্তি দিয়ে জানিয়েছে, এটি কোনো বৈষম্য নয়, বরং “কার্যকরী প্রয়োজন”।
PBG-র শারীরিক মানদণ্ড অত্যন্ত কঠোর। ন্যূনতম উচ্চতা হতে হয় ৬ ফুট (১৮৩ সেমি)। আনুষ্ঠানিক প্যারেডের গাম্ভীর্য বজায় রাখতে রক্ষীদের উচ্চতা ও বাহ্যিক রূপ একেবারে নিখুঁত ও একরকম (Visual Uniformity) হওয়া প্রয়োজন। সেনার মতে, নির্দিষ্ট ওই তিন সম্প্রদায়ের শারীরিক গঠনে এই সমতা বজায় রাখা সহজ হয়।
সেরিমোনিয়ালের আড়ালে লড়াকু বাহিনী
বাইরে থেকে কেবল আনুষ্ঠানিক মনে হলেও, PBG আসলে পুরোদস্তুর লড়াকু ইউনিট। এই রেজিমেন্টের প্রতিটি সৈন্য যোগ্য প্যারাট্রুপার। আর্মার্ড বা ট্যাঙ্ক চালানো থেকে শুরু করে সিয়াচেনের মতো দুর্গম যুদ্ধক্ষেত্র বা রাষ্ট্রসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনে— সব জায়গাতেই এই এলিট বাহিনীর সদস্যরা নিজেদের বীরত্বের প্রমাণ রেখেছেন।




















