গাজিয়াবাদ: গাজিয়াবাদের নাহাল গ্রামের শান্ত পরিবেশ হঠাৎই উত্তপ্ত। (Jaish propaganda)বৃহস্পতিবার সকালে গাজিয়াবাদ পুলিশের একটি বিশেষ টিম মুবারকপুর কালভার্টের কাছে অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে। এরা হলেন শাভেজ (ওরফে জিহাদি), মোহাম্মদ জুনায়েদ, মোহাম্মদ ফারদিন, ইকরাম আলি, ফজরু দাফেদার এবং মোহাম্মদ জাভেদ। বয়স ২০ থেকে ৪৬ বছরের মধ্যে। এদের মধ্যে একজন অ্যাডভোকেট, একজন মাদ্রাসা শিক্ষক, একজন এলএলবি ছাত্র এবং বাকিরা শ্রমিক বা ছোটখাটো কাজ করেন।
কিন্তু পুলিশের অভিযোগ এরা সবাই একটা গোপন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ চালাতেন, যেখানে জৈশ-ই-মোহাম্মদ (JeM)-এর প্রচারমূলক ভিডিও, সন্ত্রাসবাদী প্রশিক্ষণের ক্লিপ এবং চরমপন্থী কনটেন্ট শেয়ার করে যুবকদের মগজ ধোলাই করার চেষ্টা করা হতো।এই গ্রেফতারির পিছনে ছিল গাজিয়াবাদ পুলিশের সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং টিমের তৎপরতা। কয়েকদিন ধরে তারা লক্ষ্য করছিলেন যে নাহাল গ্রামের কিছু যুবক নিয়মিত পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জৈশ-ই-মোহাম্মদ এবং ফারহাতুল্লাহ গৌরির মতো চরমপন্থীদের ভিডিও দেখছে এবং ফরওয়ার্ড করছে।
আরও দেখুনঃ ‘সময়ের অভাব’! রাষ্ট্রপতির অ্যাপয়েন্টমেন্ট চেয়েও পেল না তৃণমূল
ভিডিওগুলোতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর অত্যাচারের ছবি দেখিয়ে ধর্মীয় উসকানি দেওয়া হতো। শাভেজকে মূল অভিযুক্ত বলা হচ্ছে। সে ক্লাস ১২ পাস, গ্রামের একটা মুদির দোকানে কাজ করে। পুলিশ বলছে, শাভেজই গ্রুপটা খুলেছিল এবং স্থানীয় যুবকদের যোগ দিতে উৎসাহিত করত।অভিযানের সময় পুলিশ ছয়টি মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করেছে। এখন সেই চ্যাটগুলো বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। দেখা হচ্ছে কতজন যুবক এই গ্রুপে ছিলেন, কী কী কনটেন্ট শেয়ার হয়েছে এবং এর ফলে কেউ কি সত্যিই র্যাডিক্যালাইজড হয়ে পড়েছে কি না।
একজন অভিযুক্ত ইকরাম আলির পরিবারের বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ আছে বলে খবর। তার মা সাহিদার পটভূমি নিয়েও তদন্ত চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই তথ্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে শেয়ার করা হবে।মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে আনলফুল অ্যাক্টিভিটিজ (প্রিভেনশন) অ্যাক্ট বা ইউএপিএ-র অধীনে। এছাড়া ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ধারা ১৫২ (দেশের সার্বভৌমত্ব, ঐক্য ও অখণ্ডতা বিপন্ন করা), ১৯৬ (ধর্ম, জাতি, জন্মস্থান ইত্যাদির ভিত্তিতে শত্রুতা সৃষ্টি) এবং ৬১(২) (অপরাধী ষড়যন্ত্র) প্রয়োগ করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, এই কাজগুলো দেশের নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি। জৈশ-ই-মোহাম্মদ ভারতে নিষিদ্ধ সংগঠন, যারা পাকিস্তান থেকে পরিচালিত হয় এবং ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে জড়িত।এই ঘটনা উত্তরপ্রদেশে সোশ্যাল মিডিয়া-ভিত্তিক সন্ত্রাসবাদী প্রচারের বিরুদ্ধে পুলিশের কড়া অবস্থানের আরেকটা উদাহরণ। গত কয়েক বছরে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় এমন অনেক গ্রুপ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এবারের ঘটনা অন্যরকম কারণ এতে বিভিন্ন পেশার মানুষ জড়িত আইনের ছাত্র থেকে শিক্ষক, শ্রমিক।



















