মুজাফ্ফারাবাদ: পাক অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে (POK) এখন আগুন জ্বলছে। দীর্ঘদিন ধরে চেপে রাখা ক্ষোভ, অসন্তোষ আর হতাশা ফেটে পড়েছে রাস্তায়। সাধারণ মানুষ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর দমন-পীড়ন, অর্থনৈতিক শোষণ আর রাজনৈতিক অবহেলার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠেছে। আর এই আন্দোলনের মাঝে একটি স্পষ্ট স্লোগানও উঠে আসছে ভারতের সঙ্গে মিলেমিশে যাওয়ার দাবি।
Jammu, Jammu and Kashmir: The POJK Refugee Cell held a protest in Jammu against the Pakistan Army, urging the Government of India to take steps to bring Pakistan-Occupied Jammu and Kashmir back into India. pic.twitter.com/apzaFUtobU
— IANS (@ians_india) June 13, 2026
মানুষ বলছে, পাকিস্তানের শাসনে আর নয়, তারা ভারতের অংশ হয়ে শান্তি ও উন্নয়নের স্বাদ পেতে চায়।সম্প্রতি রাওয়ালাকোট, মুজাফফরাবাদ, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছেন। জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি) এর নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে বিদ্যুৎ, পানীয় জল , শিক্ষা, চাকরি আর মৌলিক অধিকারের দাবি প্রথমে উঠলেও, ক্রমশ তা রাজনৈতিক রূপ নিচ্ছে।
আরও দেখুনঃ https://kolkata24x7.in/west-bengal/police-search-abhishek-banerjees-kalighat-residence/
পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গুলিতে দশ থেকে ত্রিশ জনের মৃত্যুর খবর এসেছে। আহত হয়েছেন শতাধিক। এই নৃশংসতার প্রতিবাদে মানুষ আরও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। অনেক জায়গায় “ভারতের সঙ্গে যোগ দাও”, “পাকিস্তানি দখলদারি মুক্ত করো” জাতীয় স্লোগান শোনা যাচ্ছে।একই সময়ে জম্মুতে পিওজেকে রিফিউজি সেল একটি বড় প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ করেছে।
পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা ভারত সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে পাক অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরকে ভারতের সঙ্গে ফিরিয়ে আনার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিন। শত শত উদ্বাস্তু পরিবারের সদস্যরা এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বলেছেন, “আমরা নিজেরাই পিওজেকে থেকে এসেছি। সেখানকার মানুষের আর্তনাদ আমরা প্রতিদিন শুনছি। পাকিস্তানি সেনা তাদের ওপর অত্যাচার চালাচ্ছে।
এখন সময় হয়েছে ভারত সরকারের হস্তক্ষেপের।”পিওজেকের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কতটা কঠিন, তা ভাবলে মন খারাপ হয়ে যায়। বিদ্যুৎ নেই, জলের সংকট, দ্রব্যমূল্য আকাশছোঁয়া। অথচ পাকিস্তানি কর্মকর্তা ও সেনা অফিসাররা বিলাসবহুল জীবন কাটাচ্ছেন। স্থানীয় যুবকদের চাকরি নেই, শিক্ষার মান খারাপ। সবচেয়ে বড় কথা, তাদের রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তানের অন্যান্য প্রদেশের লোকজনকে সেখানে বসতি দেওয়া হচ্ছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি করেছে। এই আন্দোলনে অনেকে স্পষ্ট করে বলছেন, “পাকিস্তান আমাদের ভাই নয়, দখলদার।”জম্মুতে প্রতিবাদকারীরা বলেছেন, পিওজেকের মানুষ ভারতের উন্নয়ন দেখছে। ভারতীয় কাশ্মীরে রাস্তাঘাট, হাসপাতাল, স্কুল, বিদ্যুৎ, টুরিজম সবকিছু বদলে গেছে। সেখানকার মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে। অথচ পিওজেকে একই সময়ে মানুষ অন্ধকারে বাস করছে। এই তুলনা তাদের আরও বেশি করে ভারতমুখী করে তুলছে।



















