নয়াদিল্লি: দেশের জ্বালানি বাজারে নতুন উদ্বেগ। (Petrol diesel)আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের (ক্রুড অয়েল) দাম হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ায় পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়ানোর সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ভারতের অন্যতম বৃহৎ তেল সংস্থা ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (বিপিসিএল) জুন মাসের শেষ প্রান্তিকে ৩,৯৬২ কোটি টাকার লোকসানের কথা জানিয়েছে।
উচ্চমূল্যের ক্রুড অয়েলের কারণেই এই বড় ধাক্কা খেয়েছে সংস্থাটি।চলতি মাসের শুরুতে আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড অয়েলের দাম ছিল প্রতি ব্যারেল ৭২ ডলারের কাছাকাছি। কিন্তু মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৫ ডলারে। এই অস্বাভাবিক উত্থানের ফলে দেশের তেল সংস্থাগুলো চাপে পড়েছে। বিপিসিএলের পাশাপাশি হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (এইচপিসিএল)ও আগস্ট মাস পর্যন্ত সরবরাহ নিশ্চিত করেছে।
আরও দেখুনঃ দরকার নেই আমেরিকার! AMCA কে গতি দিতে মোদীর পাশে পুতিন
সেপ্টেম্বরের জন্য এখনও সোর্স খুঁজছে তারা।বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি ক্রুড অয়েলের দাম এই উচ্চ স্তরেই থাকে, তাহলে শীঘ্রই পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়ানো হতে পারে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকার এবং তেল কোম্পানিগুলো দাম স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে লোকসান চলতে থাকলে শেষ পর্যন্ত দাম বাড়ানো ছাড়া উপায় থাকবে না। সাধারণ মানুষের কাছে এটি বড় ধাক্কা হবে।
বিপিসিএলের এই লোকসানের খবরটি শেয়ারবাজারেও প্রভাব ফেলেছে। সংস্থাটির শেয়ারের দাম কমেছে। কোম্পানির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্রুড অয়েলের দাম বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতাই মূল কারণ। তাঁরা আশা করছেন, আগামী দিনে দাম কিছুটা স্থিতিশীল হলে লোকসান কমবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তা কঠিন।সাধারণ মানুষের মধ্যে এখন থেকেই উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এক অফিস যাত্রী বলেন, “পেট্রোলের দাম বাড়লে বাজারের সব জিনিসের দাম বাড়বে। আমাদের মতো মধ্যবিত্তদের জীবন আরও কঠিন হয়ে যাবে।” ট্রান্সপোর্টাররাও চিন্তিত। তাঁরা বলছেন, “ডিজেলের দাম বাড়লে পরিবহন খরচ বাড়বে, ফলে পণ্যের দামও বাড়বে।”কেন্দ্রীয় সরকার এখনও কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আগস্টের শেষ বা সেপ্টেম্বরের শুরুতে দাম বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও দেখুনঃ বিধানসভা থেকে তৃণমূল আমলের বিতর্কিত পুলিশ অফিসারদের সাসপেন্ড মুখ্যমন্ত্রীর
সরকার চাইছে যাতে উৎসবের মরশুমে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে। তবে ক্রুড অয়েলের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে দাম বাড়ানো অনিবার্য হয়ে পড়বে।এই পরিস্থিতিতে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সরকারকে বিকল্প উপায় খুঁজতে হবে। আমদানি কমানো, দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো এবং বিকল্প জ্বালানির ওপর জোর দেওয়া যেতে পারে।
কিন্তু স্বল্পমেয়াদে এর সমাধান সহজ নয়।সাধারণ নাগরিকদের এখন অপেক্ষা করতে হবে সরকার ও তেল কোম্পানিগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য। যদি দাম বাড়ে, তাহলে দৈনন্দিন জীবনের খরচ আরও বেড়ে যাবে। অন্যদিকে কোম্পানিগুলো যদি লোকসান মেনে নেয়, তাহলে তাদের আর্থিক স্বাস্থ্য খারাপ হবে।
আরও দেখুনঃ আজ মরসুমের প্রথম ডার্বি, কেমন একাদশ সাজাল মোহন-ইস্ট ?




