নয়াদিল্লি: আকাশপথে ভারতের শক্তি আরও কয়েক ধাপ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। (Su-57)পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ ফাইটার নিয়ে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার মধ্যেই রাশিয়া ভারতের সামনে Su-57 যুদ্ধবিমান ঘিরে বড় প্রস্তাব রেখেছে। এই প্রস্তাব শুধু ভারতীয় বায়ুসেনার সক্ষমতা বাড়াতে পারে না, দেশের নিজস্ব পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরির প্রকল্পকেও গতি দিতে পারে।
তবে ৪০টি Su-57 কেনার প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলারের যে খবর ঘুরছে, সেটিকে এখনও চূড়ান্ত চুক্তি হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। বর্তমানে প্রকাশ্যে আসা তথ্য অনুযায়ী, মস্কো ভারতকে Su-57-এর যৌথ উৎপাদন এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি হস্তান্তরের প্রস্তাব দিয়েছে।
আরও দেখুনঃ নাড্ডা বৈঠকে বড় সিদ্ধান্ত! আন্দোলন প্রত্যাহার আরশোলাদের
রাশিয়ার এই প্রস্তাবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল স্থানীয় উৎপাদন। Aero India 2025-এ রাশিয়ার United Aircraft Corporation এবং Rosoboronexport জানিয়েছিল, ভারত চাইলে দেশের মাটিতেই Su-57 তৈরি করা যেতে পারে। শুধু বিমান সরবরাহ নয়, প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে ভারতীয় শিল্পকে উৎপাদন এবং ভবিষ্যতে যুদ্ধবিমান আপগ্রেডের ক্ষেত্রেও বেশি স্বাধীনতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
এখানেই উঠে আসছে সোর্স কোডের বিষয়টি। বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ভারতকে Su-57-এর সফটওয়্যার ও মিশন সিস্টেমে আরও গভীর নিয়ন্ত্রণ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমন সুবিধা মিললে ভবিষ্যতে ভারতীয় অস্ত্র, সেন্সর, অ্যাভিওনিক্স এবং নিজস্ব মিশন সিস্টেম সংযুক্ত করার ক্ষেত্রে বিদেশি অনুমোদনের উপর নির্ভরতা কমতে পারে। তবে ‘সম্পূর্ণ সোর্স কোড’ হস্তান্তরের বিষয়টি এখনও প্রকাশ্য সরকারি চুক্তির মাধ্যমে নিশ্চিত হয়নি তাই এই দাবিকে সম্ভাব্য প্রস্তাব হিসেবেই দেখা উচিত।
ভারতের জন্য আরও বড় আকর্ষণ হতে পারে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা। রাশিয়া ইতিমধ্যেই Su-57-এর সঙ্গে যুক্ত ইঞ্জিন প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা ভারতের AMCA প্রকল্পে কাজে লাগানোর প্রস্তাব দিয়েছে বলে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। বিশেষ করে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের জন্য শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য ইঞ্জিন তৈরি করা ভারতের সামনে অন্যতম বড় প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ। রুশ AL-51F1 ইঞ্জিন তৈরির অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া প্রযুক্তিগত জ্ঞান ভবিষ্যৎ ভারতীয় ইঞ্জিন উন্নয়নে কাজে লাগতে পারে।
আরও দেখুনঃ প্রধানের পদত্যাগের পর কাটল জট, নিট কাণ্ডে এ বার বাকি দাবিগুলি কী কী?
এই কারণেই Su-57-কে শুধুমাত্র একটি বিদেশি যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা হিসেবে দেখছে না প্রতিরক্ষা মহলের একাংশ। ভারতের নিজস্ব Advanced Medium Combat Aircraft বা AMCA এখনও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। চলতি বছর প্রতিরক্ষা মন্ত্রক AMCA-র উন্নয়ন ও উৎপাদনের জন্য বেসরকারি সংস্থাগুলিকে RFP জারি করেছে। ফলে দেশীয় স্টেলথ ফাইটার বাস্তবে operational হওয়ার আগে Su-57 একটি ‘bridge capability’ হিসেবে কাজ করতে পারে এমন ধারণা সামনে এসেছে।
কৌশলগত দিক থেকেও সময়টি গুরুত্বপূর্ণ। চিন ইতিমধ্যেই পঞ্চম প্রজন্মের J-20 যুদ্ধবিমান পরিচালনা করছে এবং তাদের স্টেলথ ফাইটারের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। একই সঙ্গে পাকিস্তানের চিনা J-35 সংগ্রহের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের হাতে একটি পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ প্ল্যাটফর্ম থাকলে আঞ্চলিক আকাশযুদ্ধে ভারসাম্য রক্ষার ক্ষমতা বাড়বে।
আরও দেখুনঃ মাত্র ৪৮ ঘন্টাতেই বড় বড় সিদ্ধান্ত! শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ সত্ত্বেও স্পটলাইটে শুধুই মোদী





