কলকাতা: বিধানসভায় আজ একের পর এক বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu)। তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন বিতর্কিত ঘটনায় জড়িত পুলিশ অফিসারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা করেছেন তিনি। একাধিক অফিসারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত রাজ্য রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা কালিয়াগঞ্জের নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের মামলা। এই ঘটনায় তদন্ত ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগে এক পুলিশ অফিসারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, ওই অফিসারের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করতে হবে। এই ঘটনায় রাজ্যজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়েছিল। এখন সরকারের এই পদক্ষেপ অনেকের কাছে স্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে।
আরও দেখুনঃ কলকাতায় NEET আন্দোলনে উত্তেজনা! গ্রেফতার কুণাল ঘোষ
আরেকটি উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্ত হলো অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস অফিসার পঙ্কজ দত্তকে হেনস্থার ঘটনায় জড়িত ইনভেস্টিগেটিং অফিসারকে সাসপেন্ড করা। এই ঘটনাও তৃণমূল আমলে ঘটেছিল এবং বিতর্কের ঝড় তুলেছিল। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, কোনো অফিসার যদি আইনের পরিবর্তে রাজনৈতিক চাপে কাজ করেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সংশ্লিষ্ট থানার আইসি সুবর্ণ দত্ত চৌধুরী (বর্তমানে কলকাতা পুলিশের এসবিতে কর্মরত) কেও সাসপেন্ড করা হয়েছে।
তাঁর বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অভিযোগ ছিল। এছাড়া কৃষ্ণনগরে জগদ্ধাত্রী পূজার বিসর্জনের দিন ভক্তদের ওপর লাঠিচার্জ এবং কটূক্তির অভিযোগে ইন্সপেক্টর অমলেন্দু বিশ্বাসকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এই ঘটনায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়েছিল।সবচেয়ে আলোচিত একটি ঘটনায় সাসপেন্ড হয়েছেন আইপিএস অফিসার কোটেশ্বর রাও। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবন পুলিশ জেলার কাকদ্বীপে দেবী কালীর মূর্তি ভাঙার ঘটনার প্রতিবাদ করায় স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর লাঠিচার্জ করা হয়েছিল।
আরও দেখুনঃ মাত্র ৪৮ ঘন্টাতেই বড় বড় সিদ্ধান্ত! শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ সত্ত্বেও স্পটলাইটে শুধুই মোদী
অভিযোগ, কোটেশ্বর রাওয়ের নেতৃত্বে পুলিশ এই ঘটনা ঘটিয়েছিল এবং পরে মূর্তিটিকে প্রিজন ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনায় কোটেশ্বর রাওকে সাসপেন্ড করার ঘোষণা করেছেন।বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা চাই না পুলিশ রাজনৈতিক হয়ে যাক। পুলিশ হবে জনগণের বন্ধু। যাঁরা অতীতে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় নয়।”
তিনি আরও জানান, এই সাসপেনশনগুলো শুধু শুরু। আরও তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনে আরও অফিসারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।রাজ্যের বিরোধী দলগুলো এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, এতদিন কেন এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “এটা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা।” কিন্তু সাধারণ মানুষের মধ্যে এই পদক্ষেপ নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকে বলছেন, “অবশেষে ন্যায়বিচারের আশা জাগছে।”
আরও দেখুনঃ BREAKING: আরশোলাদের আন্দোলনে নতমস্তক! ইস্তফা দিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান





